নোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার জট কাটেনি। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়নপত্র বাতিল ও আপিল শুনানি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার পরও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জোটের মূল শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতিরিক্ত আসন দাবি করায় সমঝোতা শেষ পর্যায়ে থমকে গেছে।
জোটভুক্ত একটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র জানান, ইসলামী আন্দোলন জোটের আলোচনায় জট পাকিয়ে সমঝোতা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। “দলটিকে জোটের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে সম্মান দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তাদের চাহিদা আরও বেশি। সংসদে তাদের কখনোই প্রাতিনিধিত্ব ছিল না, একক নির্বাচনে ভোটের হারও নাজুক। তাই জয়ের সম্ভাব্য আসন সমীকরণ মাথায় রেখে তাদের অতিরিক্ত দাবিকে সামঞ্জস্য করতে হবে।” তিনি আরও বলেন।
এদিকে আসন সমঝোতার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের একক প্রার্থী ঘোষণার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। জামায়াতে ইসলামের আমিরও শনিবার দেশে ফিরেছেন। শিগগিরই ঘটা করে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এক বাক্সে ভোট ফর্মুলায় আসন সমঝোতার জট এ সপ্তাহেই কাটবে। প্রক্রিয়াটি কোথাও আটকে নেই। ৯৯ ভাগ সমঝোতা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন। মাত্র কিছু আসনে দরকষাকষি চলছে, যেখানে ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রয়েছেন।”
জোটভুক্ত দলের নির্বাচনী আসন সংখ্যা সম্পর্কে জানা গেছে, জামায়াত ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮, এনসিপি ৪৭, এবি পার্টি ৫৩, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪, খেলাফত মজলিস ৬৮, এলডিপি ২৪, খেলাফত আন্দোলন ১১, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬, জাগপা ৩ এবং বিডিপি দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, “আমাদের ‘এ’ গ্রেডের আসন ১৪০টি। সংখ্যা ১০০ বা তার কাছাকাছি হলে আমরা সম্মানজনক মনে করি। তবে জামায়াত অনেক কম আসন দিতে চায়। কিছু এলাকায় সমন্বয়হীনতা আছে, যেখানে জোটের ভেতরের প্রার্থী সমান জনপ্রিয়। সঠিক সমন্বয় জরুরি।”