প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০:৩১
মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকা না পাওয়ায় অপহৃত হাসিব (১৪)কে শেষপর্যন্ত হত্যা করলো সংঘবদ্ধ অপহরণকারী ঘাতকেরা। পুলিশের প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ও মুল পরিকল্পনাকারী আব্দুল্লাহ আল নোমান হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এরপরে তার কথিতমতে রবিবার রাতে পাথরঘাটার বাইনচটকী এলাকার বিষখালী নদীর তির থেকে ড্রামে ভরে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় হাসিবুলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পূজা দেখতে যাওয়ার কথা বলে বের হয় শিশু হাসিবুল। নিখোজের ৩ দিন পর ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘাতকের হাতে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হাসিব পাথরঘাটার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরঘাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
হত্যার আগে অপহরণকারীরা মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকা চেয়ে পরিবারের কাছে হাসিবুলকে নির্যাতনের একটি ভিডিও মুঠোফোনের মাধ্যমে পাঠায়।
এবং তারা হাসিবের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা চেয়ে বারবার ডায়েল করতে থাকে।
এঘটনায় বরগুনা জেলা ডিবিপুলিশ এবং পাথরঘাটা থানাপুলিশের যৌথঅভিযানে অপহরণকারী দলের অভিযুক্ত ৭ জনকে আটক করেছে । তবে ওই অপহরণকারী দলের প্রধান আবদুল্লাহ আল নোমানের নাম বললেও ন্যায় বিচার এবং তদন্তের স্বার্থে বাকিদের নাম বলেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘাতক আবদুল্লাহ আল নোমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের মহিবুল্লাহর ছেলে।
পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক সাব-ইন্সপেক্টর আলী হোসেন জানান, অপহরণের পর থেকে তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা যায় অপহরণকারীরাা বারবার স্থান পরিবর্তন করছে। যেকারণে তাদের কব্জায় নিতে এতটা বিলম্ব হয়েছে। বিষখালী নদী সংলগ্ন কাকচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনচটকি স্লুইজগেট এলাকা থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা ড্রামের ভেতরে অর্ধগলিত মরদেহটি পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, অপহরণকারীদের কমপক্ষে ৭জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ছিল। ৩ লাখ টাকার জন্য হাসিবকে অপহরণ করে প্রথমে পাথরঘাটা পৌর শহরের ঈমান আলী সড়কের একটি বাসায় নির্যাতন করে এবং ওই নির্যাতনের ভিডিওটি পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ওই বাসায় বসেই হাসিবকে হত্যা করে একটি প্লাস্টিকড্রামে ভরে ইজিবাইকে করে দক্ষিণ বাইনচটকি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে মাটিতে পুঁতে রাখে তারা।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পাথরঘাটার হোগলাপাশা গ্রামের শ্বশুর বাড়ি ইউনুস মুন্সির ঘরে অভিযান করে আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবিপুলিশ। পরে নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, হাসিবকে কৌশলে আসামির পৌরশহরের ঈমানআলী রোডের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। খাওয়ানো হয় ঘুমের ওষুধ। এরপর রাতে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয় সাকিবকে।
২১ অক্টোবর শনিবার সকালে হাসিবের হাত, পা, মুখ বাধা এবং নির্যাতনের একটি ভিডিও পাঠিয়ে দ্রুত মুক্তিপণের টাকা দাবী করা হয়। দাবীকৃত টাকা না পেয়ে শিশু হাসিবকে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। (২২ অক্টোবর রবিবার সকালে হাসিবুলের মৃতদেহ আসামি নোমানের শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। সন্ধ্যায় আসামি নোমানের সুমন্দি আব্দুর রহিম মুন্সির সহযোগিতায় ইজিবাইক চালক আব্দুর রহিম কাজির গাড়িতে করে দক্ষিণ বানচটকি মজিদ খার বাড়ির সামনের রাস্তার গর্তে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এরপরে আসামি নোমানের কথিতমতে মতে হাসিবের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ।
এঘটনায় এপর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গহরপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল নোমান (১৯), তার সম্বন্ধী ইউনুসের ছেলে আ. রহিম মুন্সি,নোমানের শ্বশুর মো. ইউনুস (৬৫), ফুফাত ভাই সৈয়দ আলী মাঝির ছেলে মো. জসিম (৩০), ইউনুসের মেয়ে তানজিলা (২৩), স্ত্রী তাহিরা (১৯), শাশুড়ি রহিমা (৫৫), ইজিবাইক চালক আব্দুর রহিম কাজি (৪৫)।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর সঙ্গে আরও কেউ আছে কিনা এবং কোনো রহস্য আছে কিনা তা অনুসন্ধান শেষে বলা যাবে।