
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ৩:২২

কুমিল্লার মুরাদনগরে আমেনা খাতুন নামের এক বৃদ্ধাকে চুরি করতে গিয়ে হত্যা করেছিল তারই নাতি মো. সাগর ওরফে বাদশা। হত্যাকাণ্ডের ৭ দিনের মাথায় এর রহস্য বের করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে জেলার মুরাদনগর উপজেলার মোচাগাড়া গ্রাম থেকে ঘাতক নাতিকে গ্রেপ্তারের পর সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে। সন্ধ্যায় পিবিআই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। গ্রেপ্তার সাগর (২২) বৃদ্ধার নাতি ও আব্দুল মতিনের ছেলে।
পিবিআই ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর রাতে আমেনা খাতুনকে (৮২) মাথা ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করা হয়। তিনি মুরাদনগর উপজেলার মোচাগাড়া গ্রামের মৃত তালেব আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. আবু ইউসুফ বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই এ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই পরিদর্শক হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় ৫ বছর আগে সাগর তার দাদির ঘর থেকে স্বর্ণের গহনা ও টাকা চুরি করে ছিল। তখন গ্রাম্য সালিসে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতা দিয়ে মালা তৈরি করে গলায় ঝুলিয়ে গ্রামে ঘুরানো হয়। এতে সে অপমানিত হয়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। গত দুই মাস আগে সাগর তার জেঠা আবু ইউসুফকে ম্যানেজ করে গ্রামে আসে। হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে ও এলাকাবাসীর তথ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে সাগরের নাম উঠে আসে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সাগর) জানিয়েছে- ঘটনার রাতে দাদির ঘরে লাইট জালানো ছিল। এ সময় চালের ড্রাম থেকে টাকা বের করার সময় টের পেয়ে দাদি চিৎকার দিলে ধারালো দা দিয়ে মাথায় ও গলায় কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় দাদির ঘর থেকে ৫ হাজার টাকা ও ২টি তেলের বোতল নিয়ে সে পালিয়ে যায়।
পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এটা একটা ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। দাদির ঘরে চুরি করতে গিয়ে তার তাকে চিনে ফেলায় খাটের নিচে থাকা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি আরও বলেন, নাতি তার দাদীকে হত্যার পর স্বাভাবিক ছিল। লাশ দেখতে অন্যদের সাথে সেও ঘরে যায় এবং দাফন-কাফনেও অংশ নেয়। সে একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুসারে গ্রামের বাড়ির পুকুরের পানির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহার করা একটি বটি দা, একটি ছোরা ও একটি স্টিলের রড উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীর জন্য তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।