ইউএনও’র সাক্ষর স্ক্যানিং করে ৩৬ কোটি টাকার খাস জমি বিত্তবানদের নামে বন্ধোবস্ত !

নিজস্ব প্রতিবেদক
আনোয়ার হোসেন আনু, উপজেলা প্রতিনিধি, কুয়াকাটা , পটুয়াখালী
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার ৪ঠা আগস্ট ২০২২ ০৬:১৩ অপরাহ্ন
ইউএনও’র সাক্ষর স্ক্যানিং করে ৩৬ কোটি টাকার খাস জমি বিত্তবানদের নামে বন্ধোবস্ত !

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইউএনও’র সই স্ক্যানিং করে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের নামে ৪২ বিত্তবানের নামে ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের ৭২ একর খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে। মুজিব শতবর্ষের ঘরসহ প্রতি পরিবারকে দুই শতাংশ করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হলেও ৪২ বিত্তবানের নামে দেয়া হয়েছে ১ একর থেকে ৩ একর জমি রেজিস্ট্রি দলিল। 


কলাপাড়া ভূমি প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে হতবাক সাধারণ মানুষ। সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবিরসহ ভূমি প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল অংকের টাকা। ভূমি প্রশাসনের এমন অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে মুজিব শতবর্ষে ঘর বরাদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন জেলা প্রশাসন। প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্পকে।

 

জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে গৃহহীন ভূমিহীন পরিবারকে দুই শতক খাস জমি সহ সেমিপাকা একটি ঘর প্রদানের লক্ষ্যে তিনটি স্মারকে ১৯৫ টি বন্দোবস্ত কেসের কবুলিয়াত রেজিষ্ট্রি করতে খেপুপাড়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রেরণ করা হয়। একই সাথে ৪২টি বিত্তবান শ্রেণির কথিত ভূমিহীনের নাম অন্তর্ভূক্ত করে তাদের নামে ৭২ একর ৬৩ শতাংশ খাস জমির দলিল রেজিষ্ট্রী করা হয়। এ বছরের ১৯ এপ্রিল ২২টির স্থলে ৩১টি, ২৪ এপ্রিল ১২০টির স্থলে ১৩২টি এবং ১৯ মে ৫৩টির স্থলে ৭৪টি কবুলিয়াত দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়। এই ৪২টি দলিলে এক একর থেকে তিন একর করে খাস জমি বন্দোবস্ত দেখানো হয়েছে। 


৬০ এর দশক থেকে ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরের তালিকার কেস নম্বর থেকে ৪২টি নামে এই পরিমান খাস জমি মুজিবশতবর্ষের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করে রেজিষ্ট্রি দলিল করে দেয়া হয়েছে। যার অনুমোদন নিতে হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও। কবুলিয়াতের দুই শতক লেখা জায়গায় হাতের লেখায় কাটা ছেঁড়া করে এমন জালিয়াতি করা হয়েছে।


খেপুপাড়া সাব রেজিষ্ট্রার রেহেনা পারভিন বলেন, ‘যেহেতু ভূমিহীন গৃহহীনদের দলিল ছিল, ইউএনওর সই ছিল। সার্ভেয়ার তাড়াহুড়া করে নামজারির কথা বলেছে। তাই সরল বিশ্বাসে প্রত্যেক পাতা দেখিনি। এখন তো দেখি এই অবস্থা। সাবরেজিষ্ট্রী অফিসের একটি সূত্র জানান, প্রতিটি বন্দোবস্ত কেসে ইউএনও’র স্বাক্ষর ছিল। তারপরও এমন জালিয়াতি কিভাবে করা হয়েছে এমন প্রশ্ন কলাপাড়াবাসী।


এদিকে ৪২ বিত্তবানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ৭২ একর খাস জমি দলিল রেজিষ্ট্রি কাজে ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক এর সই স্ক্যানিং করে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির এমন অপকর্ম করেছে বলে দাবি করেছে কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক। এমন জালিয়াতি এবং অপকর্মের জন্য তিনি সার্ভেয়ারকে অভিযুক্ত করে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলেও জানান ইউএনও। 


পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, বিত্তবানদের নামে দেয়া ৭২ একর খাস জমি বন্দোবস্ত কেসগুলো বাতিলের উদ্দোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।