প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১২
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের (সাময়িক) বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মোল্লার (৪০) বিরুদ্ধে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ বিবাহ- বিচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৩ অক্টোবর) অভিযোগ পত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মো. ইউনুছ মোল্লা। এরআগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর অভিযোগ পত্রে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবী জানিয়ে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর যৌনকর্মী দিপু বেগম (৩৫)।
অভিযোগ পত্রে ওই যৌনকর্মী উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘ ১০বছর আগে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আসেন। এখানে আসার পর থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তার ভালোভাবেই জীবন-যাপন হচ্ছিল। কিন্তু এরমধ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা মরহুম নুরলে ইসলাম মন্ডলের ভাগ্নে জুলহাস মোল্লা দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে সে আমাকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর আমাকে বিয়ে করে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বিয়ের এক বছরের মাথায় জুলহাস মোল্লার ঔরসে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়। এরমধ্যে নানা কৌশলে জুলহাস মোল্লা আমার কাছ থেকে ব্যবসা ও রাজনীতির কথা বলে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর থেকেই সে বদলে যেতে থাকে। আমার উপর নানা অত্যাচার- নির্যাতন চালায় এবং অন্যায়ভাবে যৌতুক দাবি করতে থাকে। আমি সকল অত্যাচার সহ্য করেও সংসার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাকে জোড়পূর্বক তালাক দেয়। সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই আবারো পূর্বের পেশায় ফিরে আসি। এতোদিন তার ক্ষমতার দাপটের কারণে কোন অভিযোগ করার সাহস পাইনি।
সম্প্রতি তাকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করার খবর পেয়ে আমি এ অভিযোগ করার সাহস পাই। আমি আমার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া সকল নগদ অর্থ ফেরত চাই। সেই সাথে আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয়েরও দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযোগের বিষয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের বহিস্কৃত (সাময়িক) সাধারণ সম্পাদক মো. জুলহাস মোল্লা বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে ফাঁসাতে থানায় অভিযোগ না করে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মোল্লা জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কারো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না । কাজেই আগামী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।