
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২১, ৩:৩৩

ফরিদপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত তোড়ণে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়েছে। রাতের আঁধারে বেশ কয়েকটি তোড়ণ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। তবে ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখনো শনাক্ত করা যায়নি অপরাধীকে।
সোমবার (৯ আগস্ট) ও মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতের যে কোনো সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো জাতীয় শোক দিবসের ৩ থেকে ৪টা তোড়ণের ক্ষতি সাধন করে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে থানায় অভিযোগ দিলেও এখনও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় মুজিব সড়কে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্মাণ করা তোরণ নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। তারা বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ ব্যানার কেটে ফেলেছে। তোরণের নানা অংশ ক্ষতি করেছে।
শহরের আলীপুর প্রয়াত হাসিবুল হাসান লাবলু সড়কের সামনে নির্মাণকৃত তোরণে এক অংশের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ঝর্না হাসান কর্তৃক নির্মিত একটি তোড়ণ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম জামিল তুহিন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এখনো সেই সব জঘন্য মানসিকতার ব্যক্তিরা কীভাবে এমন নোংরা কাজ করে শহরে ঘুরে বেড়ায়, অবাক লাগে। আমরা বিষয়টি স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ঝর্না হাসান বলেন, ফরিদপুরের ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। এমন জঘন্য কাজ যারাই করুক তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এই তোড়ণের ক্ষতি যারা করেছে তারা আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করেছে। তবে তাদের আমি ভয় পাই না। আমার স্বামী ও তার পরিবার ফরিদপুরের মানুষের জন্য মুজিব আদর্শে কাজ করে গেছে। আমি ও আমার সন্তান আমৃত্যু কাজ করে যাবো।
কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক নেতা বিপুল ঘোষ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে ১৫ আগস্টের শোক জানিয়ে যে-গেট নির্মাণ করেছেন সেইখান থেকে যারা এই গেটের কালো কাপড়-ব্যানার ছিঁড়ে নিয়ে গেছে তারা আওয়ামী লীগের ঘৃণিত লোক। যারা এই ধরনের কাজ করেছে তারা জাতির শত্রু। প্রশাসনকে অতি দ্রুত এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের আওতায় তাদেরকেও আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তোড়ণের ব্যানার যারা ছিঁড়তে পারে তারা আর যাই হোক আওয়ামী লীগের কেউ হতে পারে না। তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া সময়ের দাবি। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য, নোংরা কাজ আর কেউ করার সাহস না পায়। শুধু নিন্দা জানিয়ে মানসিকভাবে শান্তি পাওয়া যাবে না। দল ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে এমন ঘটনা মেনে নেয়া আমাদের জন্য কষ্টের।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এম এ জলিল জানান, এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এর তদন্তভার থানার এস আই রাহুলকে দেয়া হয়েছে। তোড়ণগুলোর আশপাশের ভিডিও ফুটেজগুলো দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।