নওগাঁর বদলগাছীতে এক গৃহবধূর গোসলের ছবি গোপনে মোবাইল ফোনে তুলে ব্ল্যাকমেইল করে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত এডিট করে ভিডিওচিত্র মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অবশেষে মামলা হয়েছে।
প্রধান অভিযুক্ত জয় হোসেন ও শিউলি খাতুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনের নামে বুধবার বিকেলে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবূধু।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ শিউলি খাতুন (৩৬) নামে ওই গৃহবূধুর প্রতিবেশিকে বৃহসপতিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জয় হোসেন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান থানার ওসি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে গৃহবধূর বিয়ে হয়। এ দম্পতির সাত বছরের একটি মেয়ে আছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ওই যুবক গৃহবধূর অশ্লীল ছবি তোলেন। পরে ছবি থেকে ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেন। এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
একপর্যায়ে গৃহবধূ বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। তখন যুবকের পরিবারকেৎ বিষয়টি জানানো হয়। এতে যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশী শিউলি খাতুন নামের নারীর মাধ্যমে স্থানীয়দের মোবাইলে গৃহবধূর অশ্লীল ছবির ভিডিও ছড়িয়ে দেন। এর পর সেই ছবি থেকে ইডিট করে ভিডিও প্রকাশের পর গৃহবধূকে তার স্বামী গত বৃহস্পতিবার (২০ মে ) তালাক দেয়। এর এরপর গত ২৪ মে গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি পর্নোগ্রাফি আইনের মধ্যে পড়ায় ( বৃহস্পতিবার ) বিকেলে মামলা থানায় দায়ের হয়।
ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমার স্বামীর ভাতিজা জয় গোসলের ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। ভয়ে বাধ্য হয়ে কুপ্রস্তাবে সাড়া দিই। ৮ মাস আগে ওই ভাতিজা বিয়ে করে। তারপরও সে আমার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চায়। এতে রাজি না হওয়ায় ছবি থেকে ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়।
‘প্রথম ভিডিও প্রতিবেশী শিউলির মাধ্যমে ছড়ানো হয় বলে জানতে পেরেছি। পরে ভিডিওর বিষয়ে জানাজানি হলে আমার স্বামী আমাকে তালাক দেন। ‘কিন্তু আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাই। পরিবারের কাছে আমাকে ছোট হতে হচ্ছে লজ্জায়। বিনা অপরাধে সম্মান, স্বামী, সংসার সবকিছু আমি হারালাম।’
মামলা করার পর প্রতিবেশি শিউলি খাতুন গ্রেফতার হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জয়কে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমি জড়িতদের কঠিন শাস্তি চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করায় ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু দু:খের বিষয় আমার স্বামীটা আমার কষ্ট বুঝলো না, তার ভাতিজা আমার সর্বনাশ করলো উল্টো আমাকেই বিনা অপরাধে পর করে দিলো।
এবিষয়ে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ঐ গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করে অভিযুক্ত শিউলি খাতুন কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জয় পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃর্ত শিউলি খাতুনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
#ইনিউজ৭১/এনএইচএস/২০২১