
প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪:২৮

হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে মুখরিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী মুরাদপুর গ্রাম। সারাদিনমান হাওরে বাওড়ে ঘুরে পাখিরা এসে ঠাঁই নেয় মুরাদপুর গ্রামের শতাধিক উঁচু গাছে। সুর্য ডোবার পর থেকে বিভিন্ন হাওর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে গ্রাম পরিক্রমা সেরে সন্ধ্যার আধার নেমে আসার পর পানকৌড়ি, সাদাবক, লালবক, ধনেশসহ নানান জাতের অতিথি পাখি গ্রামের উঁচু গাছ গুলোর মগডালে এসে আশ্রয় নেয়।
ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার পাখি একই ভাবে খাবারের সন্ধানে চলে যায় আশপাশের হাওর গুলোতে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে কাকডাকা ভোর পর্যন্ত চলে পাখিদের সমাবেশ। পাখির কিচিরমিচির ডাকে গ্রামবাসীর ঘুম ভাঙ্গে। রাতের কালো নিঃস্তব্ধতা ভেদ করে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ এক স্বর্গীয় সুখানুভুতির জন্মদেয়। গ্রামবাসী পাখির দের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে নিজেদের উদ্যোগে পাখি শিকার কিংবা পাখিদের কেউ বিরক্ত করলে দশহাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণার পর থেকে ছোট্ট শিশু থেকে প্রবীণরা সকলেই পাখিদের নিরাপত্তায় খেয়াল রাখেন। এমনকি রাতের বেলাও পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চত করেন।
গ্রামবাসীর সঙ্গে কথাবলে জানা যায়, গেলবার পৌষ মাসের শুরুতে সীমিত আকারে পাখি এসেছিলো গ্রামের মরহুম এজো চৌধুরীর বাড়ির উঁচু গাছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের আগমন দেখে অবাক গ্রামবাসী। তারা পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলার লক্ষ্যে গ্রামে সচেতনতার কাজ করেন। সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে পাখিদের আবাসস্থলকে কোন ব্যক্তি অনিরাপদ করে না তুলেন। সে লক্ষ্যে গ্রামের ছোট বড়ো সাবার প্রতি পাখিদের বিরক্ত না করার নির্দেশনা জারি করেন।
সেই থেকে গ্রামের কিশোর, যুবক, নবীন, প্রবীণ কেউ পাখিকে বিরক্ত করে না। বছরের পৌষমাস থেকে শুরু করে বৈশাখ মাস পর্যন্ত পাখিরা গ্রামে বিচরণ করে। আবার গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আবাসস্থল ছেড়ে যায়। গ্রামের নারকেল গাছ, সুপারিগাছ, আমগাছ, জারুলগাছ, বটগাছ, জামগাছসহ সকল বনজ ও ফলদবৃক্ষে পাখিরা প্রায় ১২ ঘণ্টা পাখিরা বিশ্রাম নিয়ে আবার হাওরে চলে যায়। পৌষ থেকে বৈশাখ দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলে পাখিদের আনাগুনা।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সাঞ্জব আলী বলেন, ব্যাপক ভাবে গ্রামে পাখিদের আগমনের ফলে গ্রামের পরিবেশ ও প্রকৃতিতে নুতন করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে।গ্রামবাসী সবাই মিলে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিশ্চিতের জন্য পাখি শিকার কিংবা পাখিকে বিরক্ত করলে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।হারুন মিয়া নবী হোসেন আব্দুর রহিম বলেন, প্রতিদিন গ্রামের সৌখিন লোকজন পাখিদের লীলাখেলা দেখতে মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রামের পশ্চিম দিকের পাকা সড়কে অবস্থান করেন। পাখির এমন আবাস স্থলের খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামের লোকজন প্রতিদিন বিকেলে তাদের গ্রামে এসে ভিড় জমান। শিমুলবাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু বলেন,পাখিদেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামবাসী উদ্যোগী হয়েছেন। গ্রামবাসীরা বলেন প্রতিদিন পাখির লীলাখেলা দেখতে গ্রামের লোকজন সহ আশপাশের এলাকার লোকজন গ্রামে আসেন।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব