
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২১, ১৮:২০

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ভীর বাড়ছে হাসপাতালে। দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র করোনা ডেটিকেটেড বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের করোনা ইউনিট এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। ১০টি বেড থেকে ৩শ’ বেডে উন্নীত করলেও এখন কোন সিটই খালি নেই। অথচ বিশাল এ ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। এছাড়া তিন শিফটে ৪৫ জন নার্স সামাল দিচ্ছেন সব। এ অবস্থায় রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
এদিকে জনবলসহ নানান সংকটের কারনে আর নিট বাড়ানো সম্ভব না বলে জানিয়েছেন কতৃপক্ষ। বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। তাই বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ১৩ বেডের একটি করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে।’
বরিশাল স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্র জানায়, বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৭৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর আগের দিন ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন, আর পূর্বের ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৭১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিলো। সর্বশেষ আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩হাজার ৫৬৩ জন।
একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসাপাতালের করোনার আইসোলেশন ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গেলো ২৪ ঘন্টায় বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২ জন ও ঝালকাঠিতে ২ জনসহ মোট ২৪ জন করোনা রোগীর মৃত্যু শনাক্ত হয়েছে। যা নিয়ে বরিশাল বিভাগে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, মোট আক্রান্ত ২৩ হাজার ৫৬৩ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ১২৮ জন।
আক্রান্ত সংখ্যায় বরিশাল জেলায় নতুন সর্বোচ্চ ৪৯২ জন নিয়ে মোট ১০ হাজার ১০৪ জন, পটুয়াখালী জেলায় নতুন ৮১ জন নিয়ে মোট ২৯৭৩ জন, ভোলা জেলায় নতুন ৩৩ জন সহ মোট ২৩২৬ জন,
পিরোজপুর জেলায় নতুন ৯২ জন নিয়ে মোট ৩২৮৯ জন, বরগুনা জেলায় নতুন ৭৪ জন নিয়ে মোট আক্রান্ত ১৯৭৭ জন এবং ঝালকাঠি জেলায় নতুন ১০৭ জন শনাক্ত নিয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৯৪ জন।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র বরিশাল শেবাচিম হাসাপাতালের করোনার আইসোলেশন ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে এগারজনের মৃত্যু হয়েছে।

যা নিয়ে শুধুমাত্র শেবাচিম হাসপাতালেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৩১ জন এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে ৬২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ৬২৪ জনের মধ্যে ৩৪ জনের কোভিড টেস্টের রিপোর্ট এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।
শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত শেবাচিমের করোনার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৭ জন ও করোনা ওয়ার্ডে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। করোনা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে এখন ৩১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
যাদের মধ্যে ৯৮ জনের করোনা পজিটিভ এবং ২১৩ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। আরটি পিসিআর ল্যাবে মোট ২০০ জন করোনা পরীক্ষা করান। যারমধ্যে ৫৫ শতাংশ পজিটিভ শনাক্তের হার।
রাজশাহী খুলনার পর এবার বরিশালে করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতি হওয়ায় প্রধান ভরসা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসাপাতালে ছুটছেন। সেখানকার করোনা ইউনিট এখন রোগীতে পরিপূর্ণ।
গলিপথ, সিঁড়ির পাশেও দেখা যাচ্ছে শুয়ে আছেন করোনা রোগী। অনেক রোগী ভর্তি হওয়ার জন্য ঘুরতে দেখা গেছে।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী সংকটের মধ্যে ৩ শত বেডের ইউনিট চালানোই অসম্ভব, সেখানে সর্বোচ্চ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেয়ার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। আর সাপোর্ট না থাকায় এ মুহুর্তে শেবাচিমের করোনা ইউনিটে বেড বাড়ানোও সম্ভব নয়। এখন সংকটাপন্ন রোগী ছাড়া আপেক্ষিক ভালো অবস্থার রোগীদের ভর্তি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে। সোমবার (১২ জুলাই) থেকে ২২ বেডের করোনা ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল।