
প্রকাশ: ১ জুন ২০২১, ২২:২৮

গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে ৩ ব্যক্তির মৃত্যু; নতুন আক্রান্ত ৬৭ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যু নওগাঁ জেলায় একদিনে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৩ জন মৃত্যুবরন করেছেন এবং নতুন করে ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
নওগাঁর ডেপুটি সিভিলসার্জন ডাঃ মঞ্জুর এ মোর্শেদ জানিয়েছেন জেলায় ইতিপূর্বে একদিনে এত পরিমান আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহাদেবপুর উপজেলায় ১ জন, নিয়ামতপুরে, উপজেলায় ১ জন, এবং পোরশা উপজেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৩ জন-এ। নিহতের মধ্যে নিয়ামতপুরের ১জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর রাতে মারা যায়। নিহত মহাদেবপুরের একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাহালে নেয়ার পথে আজ (মঙ্গলবার) সকালে মারা যায় এবং পেরাশায় নিহত ব্যক্তি বাসায় মারা যায় আজ ( মঙ্গলবার ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে। নিহত তিনজনই পুরুষ ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।
গত ২৪ ঘন্টায় পরীক্ষায় নতুন করে মোট ৬৭ ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পিসিআর ল্যাবে ১৩৫ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৫৪ ব্যক্তির শরীরে। এ সময় নওগাঁয় অ্যান্টিজেন্ট প্রক্রিয়ায় মোট ৬২ ব্যক্তির পরীক্ষায় ১৩ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
জেলায় এই ২৪ ঘন্টায় উপজেলা ভিত্তিক শনাক্তের সংখ্যা সদর উপজেলায় ১৪ জন, মহাদেবপুর উপজেলায় ৪ জন, মান্দা উপজেলায় ১ জন, পত্মীতলা উপজেলায় ১ জন, ধামইরহাট উপজেলায় ৫ জন, নিয়ামতপুর উপজেলায় ৩৭ জন, সাপাহার উপজেলায় ২ জন এবং পোরশা উপজেলায় ৩ জন। মোট শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ০১ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩শ ১ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় হোম কোয়ারেনটাইনে নেয়া হয়েছে ১১৮ ব্যক্তিকে। এ পর্যন্ত মোট কোয়ারেনটাইনে নেয়া হয় ২২ হাজার ২শ ৪৯ জন। এ সময় কোয়রেনটাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ২১ হাজার ২শ ৮৭ জন । বর্তমানে কোয়ারেনটাইনে রয়েছেন ৯৬২ ব্যক্তি।

এ সময় সুস্থ্য হয়েছেন ৪ জন এবং সর্বমোট সুস্থ্য হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন এবং আইসোলেশনে আছেন ৯ জন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, পাশ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার প্রকোপ বাড়ায় ওই জেলার সাথে যোগাযোগ এর বড় রাস্তার সংযোগ গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুই জেলার সীমান্তে মাইকিং করা হচ্ছে যেন কেউ অকারণে যাতায়াত না করে। জেলা পুলিশ এ বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, দেশের যে ৭টি জেলাকে সর্বাত্মক লকডাউনের আওতায় নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে নওগাঁ রয়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে এখন পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষনার নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো সর্বাত্মক সর্তকবস্থা নেওয়া হয়েছে।
#ইনিউজ৭১/জিয়া/২০২১