
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৯

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের স্বর্ণের বাজারে নতুন একটি রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগের দামের তুলনায় প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাজুস এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘোষিত নতুন দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং আমদানিনির্ভরতার প্রভাবও এই দামের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বর্ণের এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্রেতা বলছেন, বর্তমান দামে স্বর্ণ কেনা তাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে বিয়ে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কেনার ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা এখনও রয়েছে। অনেকেই স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা দামের ঊর্ধ্বগতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে সামনের দিনগুলোতেও স্বর্ণের দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি দেশের গয়না শিল্প, ভোক্তা বাজার এবং বিনিয়োগ খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে ভবিষ্যতে দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে বাজুস।