প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৭

টাঙ্গাইলের গোপালপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল হোসেন জয়কে (১৮) অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির মাটির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ঢাকার একটি তদন্তকারী দলের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত জয় গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন জয়। এরপর অপরিচিত এক ব্যক্তি জয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় নির্যাতনের ছবি পাঠায়। এ সময় জয়কে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দরিদ্র কৃষক খাদেমুল ইসলাম ধারদেনা ও সুদে টাকা সংগ্রহ করে ১৩টি বিকাশ নম্বরে মোট পাঁচ লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও ছেলের কোনো সন্ধান পাননি তিনি।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাকিব ও মামুনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে সেটি মামুনের গ্রামের বাড়ি ডিমলার বালাপাড়া এলাকায় নিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। গ্রেপ্তার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন জয়ের বাবা-মা। খাদেমুল ইসলাম বলেন, “মুক্তিপণ দিয়েছিলাম ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায়। টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেলাম না। আমি খুনির ফাঁসি চাই।” জয়ের মা জোহুরা বেগমও এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গোপালপুরের দাদীর আটা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।