প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি ও পশ্চিম বীর নারায়ণ এলাকায় খয়রাবাদ নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা। নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে দপদপিয়া ইউনিয়ন খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য নদীভাঙন দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। বারবার বসতভিটা হারিয়ে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু তহবিলের অর্থের সুফল ভাঙনকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি। তাঁর ভাষায়, “আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমাদের রাস্তাঘাট নির্মাণ করুন। আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমাদের বাড়িঘর রক্ষা করুন।”
তিনি আরও বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে দুর্ভোগ হচ্ছে। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি এলাকার কবরস্থানও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ১০০ বছর ধরে খয়রাবাদ নদীর ভাঙনে বসতভিটা, পৈতৃক সম্পত্তি ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও ২০০টির বেশি পরিবার ও প্রায় এক হাজার মানুষ বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার নদীতীর জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। গত ৭ জুন একই দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও প্রায় তিন মাসেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তাঁরা।