রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আখক্ষেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন নেছা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ও লাশ গুম চেষ্টা মামলার প্রধান আসামী রফিকুল ইসলাম মৃধা'কে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার দিনগত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ২ টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বেপারিপাড়া এলাকা হতে তাকে আটক করে র্যাব -১০ এর একটি আভিযানিক দল।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে র্যাব-১০ এর ফরিদপুর ক্যাম্প হতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় রফিকুলকে প্রধান এবং অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহত নারীর বড় মেয়ে জুলেখা আক্তার। মামলার নং ৩। ধারা ৩০৪/ এ এবং ২০১।
তবে ঘটনাটি ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানার ওসি জানিয়েছেন, বাদী এ বিষয়ে অভিযোগ না দিলে তার কিছুই করার নেই।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার আখক্ষেতের পাশ থেকে নবীরন নেছার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এর আগে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে রফিকুল ও তার কয়েকজন সহযোগী লাশটি গুম করার জন্য আখক্ষেতের পাশের পুকুর পাড়ে গর্ত খুড়ে সেখানে পুতে রাখার চেষ্টা করে।
নিহত নারী স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।
এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ লাশটি কবর দেয়ার আগ মূহুর্তে তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
তবে নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারন এবং লাশ গুম চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, নবিরন বেগমের মৃত্যু ও লাশ গুমের ঘটনায় তার বড় মেয়ে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন। র্যাব-১০ এর একটি দল রাতেই মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে ফরিদপুর হতে গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুরের পর আসামিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।