মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একইদিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে একটি দাঁড়াশ সাপ, একটি তক্ষক ও একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা প্রাণীগুলো শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলর ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোয়াগাঁও শাইঠুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি ফিশারিতে এ ঘটনা ঘটে। গত রাতে মাছ ধরার জন্য পাতা ঠানা জালে একটি সাপ আটকা পড়ে। শনিবার দুপুরে জাল তুলতে গিয়ে প্রকল্পের ম্যানেজার সাপটিকে দেখতে পান। তিনি সাপটিকে না মেরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা সাপটি দাঁড়াশ বলে শনাক্ত করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় জাল কেটে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় জালে আটকা থাকায় সাপটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রুপসপুর এলাকায় রুপন পালের বাসার ঠাকুর ঘরে একটি তক্ষক ঢুকে পড়ে। তক্ষকটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে রুপন পাল বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তক্ষকটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটিও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন বেলা ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তির বলাই রবিদাসের বাসার পাশে একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় একটি লজ্জাবতী বানর মাটিতে নেমে আসে। বানরটিকে দেখতে পেয়ে সেখানে থাকা শিশুরা চিৎকার শুরু করে। এ সময় দুলাল রবিদাস বানরটিকে ধরে আটকে রাখেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি জানালে পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে লজ্জাবতী বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার করা বানরটিকেও শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে খাদ্য, আশ্রয় বা চলাচলের পথে এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিবেশবিদরা বলেন, বন্যপ্রাণী মানুষের বসতবাড়ি বা লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত করা উচিত নয়। প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের খবর দিলে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।