
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩২

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ছিল স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এমন পরিস্থিতিতে বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুর নিজ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ এলাকাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের এলাকার নারী-পুরুষও সাঁকোটি ব্যবহার করে সহজে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের জানান, টানা বর্ষণে বিদ্যালয়ের পাশের নালা উপচে পড়ে এবং স্কুলে যাওয়ার প্রধান পথ পানিতে ডুবে যায়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ পথ ঘুরে অথবা পানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছিল।
এ অবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুর। তার উদ্যোগে অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং শিক্ষার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাইয়্যেবা, রোজা ও আয়াত আল তাকিসহ কয়েকজন জানায়, আগে পানির মধ্যে দিয়ে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হতো। এখন সাঁকো হওয়ায় তারা নিরাপদে ও সহজে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে। এজন্য তারা নির্মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জালাল বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করত। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। প্রাক্তন শিক্ষার্থীর এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকার বয়ে এনেছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
ইঞ্জিনিয়ার শেখ জুয়েল বাহাদুর বলেন, একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই শিশুদের কষ্ট লাঘবে সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সরকারের পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে আসা উচিত।