উত্তর জনপদের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে এখন বিরাজ করছে জ্যৈষ্ঠ মাসের ‘মধুমাস’ রাজত্ব। ষড়ঋতুর বাংলায় জ্যৈষ্ঠ এক অনন্য ঋতু হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রকৃতি হরেক রকম রসালো ফলে ভরে ওঠে। গ্রীষ্মের খরতাপকে উপেক্ষা করে প্রকৃতির বুকে যেন সাজানো হয় ফলের ডালি। আম, জাম, লিচু, কাঁঠালসহ নানা দেশীয় ফলের মৌ মৌ ঘ্রাণে পুরো আত্রাই এলাকা এখন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাজার ও গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, সারা বছর বিদেশি ফলের আধিপত্য থাকলেও জ্যৈষ্ঠ মাসে দেশীয় ফলের দখলই বেশি। এই সময়ে বাঙালির দেশীয় ফলের প্রতি তীব্র আকর্ষণ দেখা যায়। ফলে বাজারজুড়ে আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারস, করমচা, জামরুল, আতা, গাব, আমড়া, তরমুজ, বাঙি, বেল, তালশাঁস, খেজুরসহ নানা ধরনের ফলের সমাহার দেখা যায়।
আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর-মির্জাপুর বাজার, শাহাগোলা, নওদুলী, বজ্রপুর, বান্ধাইখাড়া বাজারসহ ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে ঝুলছে পাকা আম। কোনোটি সিঁদুরে লাল, কোনোটি হলুদ, আবার কোনোটি সবুজ ও মিশ্র রঙে রাঙানো। প্রতিটি আমের রয়েছে আলাদা নাম ও স্বাদ। স্থানীয়দের মতে, আমই জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রধান অমৃত ফল।
এছাড়া জাতীয় ফল কাঁঠাল হলুদ বর্ণে গাছের ডালে ঝুলে আছে। লিচু পেকে ঝরে পড়ার অপেক্ষায়, আর জামের গাছে থোকায় থোকায় কালো ফল ঝুলছে সবুজ পাতার ফাঁকে। লিচুর গাছে দিনে পাখি আর রাতে বাদুড়ের কোলাহল প্রকৃতিকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রকৃতির এমন ফলবৈচিত্র্য অন্য কোনো মাসে দেখা যায় না। তাই বাঙালি সংস্কৃতিতে এ মাসকে ‘মধুমাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। যদিও এ নিয়ে ইতিহাসে কিছু মতভেদ রয়েছে, তবুও জনজীবনে জ্যৈষ্ঠই মধুমাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।