
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩০

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় টানা দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে শ্রীমঙ্গল এলাকায় মোট ২৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে। এর মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
একই সময়ে ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতাও ছিল উল্লেখযোগ্য। ২৭ এপ্রিল রাতে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়, যা জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে ফেলে এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও বড়লেখাসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত নয় দফা ঝড় বয়ে গেছে। এতে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর, ফলে বহু এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে বা হেলে গেছে এবং শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়।

কমলগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া শমশেরনগর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, জেলার সাতটি উপজেলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বহু ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়েছে, যা দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে টিমগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তবে টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে মেরামত কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে, তবুও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।