প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৯

ঝালকাঠি জেলায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জেলার চার উপজেলা জুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনে জেলায় প্রায় ২০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পর ২২ থেকে ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে তার অনেক কম। ফলে বাধ্য হয়ে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বরিশালের দুটি গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে ঝালকাঠিসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে মোট চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় সংকট দিন দিন বাড়ছে।
রাজাপুর উপজেলায় চাহিদা ১০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে প্রায় ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এতে এলাকাজুড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।
তারা জানান, সামনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ সংকটে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। গরমের কারণে দিনেও ঠিকমতো পড়া সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান চালাতে সমস্যা হচ্ছে, গরমে ক্রেতা কমে যাচ্ছে সব মিলিয়ে আয় কমে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।

একইভাবে ইজিবাইক চালকরাও বিপাকে রয়েছেন। বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় আয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ পাওয়া এবং কেন্দ্রীয়ভাবে লোড নিয়ন্ত্রণের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং কমানো কঠিন।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট নিরসনে বিকল্প জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের দিকে জোর দেওয়া জরুরি।