ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে নতুন পোশাক। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় দর্জিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মানুষের ভিড় দর্জি দোকানগুলোতে।
রমজান শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই দর্জিদের ব্যস্ততা শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন দর্জি দোকানে দিনরাত চলছে সেলাই মেশিনের খটখট শব্দ। সরাইল সদর এলাকার উচালিয়া পাড়া মোড়ে শপার্স গ্যালারির ‘ফখরে বাঙ্গাল (রহ) পাঞ্জাবি টেইলার্স’-এ গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, আবার কেউ পোশাকে পুঁতি ও লেইচ সংযুক্ত করছেন। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি দোকানেই অর্ডারের চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন একজন কারিগর ৮ থেকে ১০টি পোশাক তৈরি করছেন, যা ঈদের আগে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দর্জিরা শার্ট, প্যান্ট, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা ও স্কার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করছেন। অনেকেই আগাম অর্ডার দিয়ে রাখছেন, তবে বর্তমানে অনেক দোকান নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
দর্জি মালিকরা জানান, ক্রেতারা এখন রেডিমেড কাপড় কিনে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইনে পোশাক বানাতে আসছেন। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি কারিগর এনে কাজ চালাচ্ছেন।
মো. জামিনুল ইসলাম নামের এক দর্জি বলেন, “এই সময়ে পাঞ্জাবির অর্ডার বেশি থাকে। কাজের চাপও তাই অনেক বেড়ে যায়।”
ঈদকে কেন্দ্র করে দর্জি ব্যবসায়ীদের সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ আসে এই সময়েই। তাই ব্যস্ততার মাঝেও তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যাতে ক্রেতারা পছন্দের পোশাক সময়মতো পেতে পারেন।