প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৬

টাঙ্গাইলের সিপিসি-৩, র্যাব-১৪ কর্তৃক পৃথক দুটি অভিযানে একটি হত্যা মামলার তিন আসামি এবং একটি ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত কোরপান আলী (৭০) ও অভিযুক্তরা একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নিহত ব্যক্তির স্ত্রী মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে নিহতের স্ত্রী বাড়ির বাইরে রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে কোরপান আলী তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে কোরপান আলীর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান (২২) সখিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযানে নামে এবং টাঙ্গাইল সদর থানার বিভিন্ন এলাকা ও গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

অপর অভিযানে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি মিলন (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, আসামি ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ভিকটিমকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ভিডিও ব্যবহার করে ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
ভিকটিম বিষয়টি পরিবারকে জানালে আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত তিনটার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার গালুটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।