বরিশালের হিজলা উপজেলাধীন মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন প্রতিরোধে এক বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
'বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৬' এর আওতায় পরিচালিত এই অভিযানে আনুমানিক ৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে ৭ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য অফিসার ড. মো. হাদিউজ্জামান এবং বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অদ্র জ্যোতি বড়াল এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফাহিম হাসান খান।
অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিজলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার ওমর সানি, কোস্ট গার্ডের পেটি অফিসার মীর ফারুক হোসেন এবং হিজলা কোস্ট গার্ডের চিফ পেটি অফিসার মো. মাইনউদ্দিন খান। হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে।
হিজলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম জানান, মঙ্গলবার(৩ ফেব্রুয়ারি) দিনভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় ৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা। জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
এছাড়া অভিযান চলাকালীন প্রায় ৫ শত কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়। সন্ধ্যার পূর্বে জব্দকৃত এই মাছগুলো স্থানীয় ১০টি এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আটককৃত ৭ জন জেলের মধ্যে ৪ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। বাকি ৩ জনের বিরুদ্ধে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় এবং জাটকা নিধন রোধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল ব্যবহারকারী এবং জাটকা শিকারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।