দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বুধবার বরিশালে জনসভা করে তিনি যে বার্তা দেবেন, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
বরিশালবাসীর স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বল করছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ১৯৭৯ সালে বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বরিশাল বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে বিভাগ হিসেবে বরিশালের উদ্বোধন করেন বেগম জিয়া।
তার শাসনামলেই বরিশাল বিমানবন্দর চালু, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার, সার্কিট হাউজ, জেলা জজ আদালত ভবন, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু স্থাপনা গড়ে ওঠে।
ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস আবিষ্কার হয় ১৯৯৫ সালে। যদিও আজও সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি। একইভাবে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক, দপদপিয়া সেতু, গাবখান সেতু, বেকুঠিয়া ফেরিঘাট, কুয়াকাটা পর্যটন মোটেল দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে বড় কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা রেললাইন, বরিশালে ইপিজেড, নিয়মিত বিমান ফ্লাইট, চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর আকাশপথ চালু, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষা বাঁধ, বরিশাল বন্দরের নাব্যতা উন্নয়ন—সবই এখনো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
এ ছাড়া কৃষি প্রধান বরিশাল অঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়িয়ে গম ও বোরো উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ না থাকায় বছরে বিপুল সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের সফরকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দেখছেন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে। তারা প্রত্যাশা করছেন, তিনি তার বাবা-মায়ের উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন।