ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বরাদ্দকৃত প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পর জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বিএনপি জোটের প্রার্থী ও দলীয় বহিষ্কৃত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীক পেয়েছেন। তবে তার বিপরীতে দল থেকে বহিষ্কৃত বিএনপির দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক পেয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অন্যদিকে বহিষ্কৃত নেতা তরুণ দে পেয়েছেন কলার ছড়া প্রতীক। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা নির্বাচন অফিস থেকে এসব প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবসহ এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন— আশরাফ উদ্দিন (জাতীয় নাগরিক পার্টি), এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা (জাতীয় পার্টি), এস এন তরুণ দে (স্বতন্ত্র), তৈমুর রেজা মো. শাহজাদা (জেএসডি), নেছার আহমদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. মইন উদ্দিন (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র), শরিফা আক্তার (আমজনতার দল) এবং মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুর গাছ)।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করবেন এবং এলাকার মানুষের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত। তার ভাষায়, “বাপ স্বতন্ত্র, বেটিও স্বতন্ত্র—সময়ই বলবে কপাল কেমন।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী তরুণ দে বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি সবকিছু ছেড়ে নির্বাচনে নেমেছেন এবং কলার ছড়া প্রতীককে বিজয়ী করতে ভোটারদের পাশে চান।
অন্যদিকে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, তিনি মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবেন এবং নদীভাঙন কবলিত পানিশ্বর এলাকাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রক্ষা করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি ও জোটের সমর্থনে শতভাগ বিজয় অর্জন করবেন।