মৌলভীবাজারে টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১১৭.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির পরিমাণ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে এই ভারী বর্ষণের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার বহু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, ফলে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির ফসল, শাকসবজি খেত ও মাছের ঘের।
শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট ইউনিয়নের রামপাড়া এলাকায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলায় সব প্রশাসনিক ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল ঝড়ের কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ পড়ে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় রাজনগরসহ অনেক এলাকায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় মানুষ অন্ধকারে কাটায়।
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবাই আয় রোজগার হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। রিকশাচালক জমির মিয়া জানান, সকাল থেকে মাত্র ৫০ টাকা আয় করেছেন, যা দিয়ে ব্যাটারি চার্জ, মালিককে ভাড়া এবং নিজের খাবার চালানো সম্ভব নয়। চা-সিগারেট বিক্রেতা আরিফ মিয়া বলেন, বিক্রি প্রায় নেই বললেই চলে।
জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন জানিয়েছেন, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আতঙ্ক না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।