টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে ব্যাপক মড়ক প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এর ফলে প্রতিদিন শত শত মুরগি মারা যাচ্ছে এবং খামারিরা ব্যাপক লোকসানে পড়ছেন। খামারিদের অভিযোগ, প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না। মুরগির খাবার, ভ্যাক্সিন এবং ওষুধের দাম বাড়লেও ডিম ও মুরগির দাম কমে যাওয়ার ফলে খামারি ও উদ্যোক্তারা বিপদে পড়েছেন। এসবের মধ্যে মড়ককে “গোঁদের উপর বিষফোঁড়া” হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা।
গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের মাকুল্লা ও চর শিমলা গ্রামের খামারি শামীম হোসেন এবং রুবেল হোসেনের খামারে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১,২০০ মুরগি মারা গেছে। তাদের মতে, প্রথমে মুরগিগুলো ঝিমিয়ে পড়ে এবং পরে একে একে মারা যেতে থাকে। রুবেল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে কার্যকর চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না, বরং অকার্যকর কোম্পানির ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি মধুপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সহযোগিতা নিয়ে থাকেন।
এছাড়া, পোড়াবাড়ী, চন্দবাড়ী ও আভুঙ্গি গ্রামে আরও অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মুরগি মারা যাওয়ার কথা জানান খামারি শফিক মিয়া। তাদের মতে, প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ও মাঠ কর্মীরা কখনও খামার পরিদর্শনে যান না, ফলে খামারিরা সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছেন।
গোপালপুর বাজারের ফিড ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২ সপ্তাহে দু'টি খামারে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মুরগি মারা যাওয়ায় ব্যবসায়িকভাবে তিনি ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। তিনি জানান, খামারিদের চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ নাসির আহমেদ জানান, গোপালপুর ও ঘাটাইল উপজেলায় পানিবাহিত ফাউল কলেরা ও টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়েছে। এর সাথে কিছু কিছু এলাকায় রাণীক্ষেত রোগও দেখা যাচ্ছে। তিনি মৃত মুরগি মাটিতে পুঁতে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।
গোপালপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. অর্জুন দেব জানান, তিনি মড়কের প্রাদুর্ভাবের খবর জানেন না। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. গোলাম মোরশেদ জানান, পরীক্ষা ছাড়া এটি বার্ডফ্লু বা রাণীক্ষেত রোগ কিনা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
এছাড়া, উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, গোপালপুর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৭৪,১২৬টি মুরগি এবং ৩৭০টি লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে।