প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৫
নওগাঁ জেলা কারাগারে আটক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক হোসেন মোল্লার মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় জাল রুপির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত সিদ্দিক হোসেন মোল্লা মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি মান্দার পরানপুর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে ভারতীয় জাল রুপি লেনদেনের সময় সিদ্দিক মোল্লা ও মহাদেবপুর উপজেলার কারিয়াপ্পা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে দুজনকে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল, তবে দুই দিন পর আদালতে হাজির করা হলে তাদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা থানার ওসি মনসুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জাল রুপি লেনদেনের সময় সিদ্দিক মোল্লা ও কারিয়াপ্পা চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নওগাঁ জেলা কারাগারের জেল সুপার নজরুল ইসলাম জানান, সিদ্দিক মোল্লা কারাগারে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তার স্বাস্থ্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, তার মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি, সিদ্দিক মোল্লা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, সিদ্দিক মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা উচিত।
এদিকে, পুলিশ বলছে, ভারতীয় জাল রুপি চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই মামলায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।