
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৮:৮

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করবে বিশ্বব্যাংক। বুধবার, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এ সহায়তার ঘোষণা দেন।
এ ঋণ প্যাকেজের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ডিজিটালাইজেশন এবং পরিবহন খাতের উন্নয়নে বড় ধরনের সহায়তা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ঋণ সহায়তার মধ্যে কমপক্ষে ২ বিলিয়ন ডলার হবে নতুন ঋণ এবং আরও ১.৫ বিলিয়ন ডলার পুনর্ব্যবহৃত হবে বিদ্যমান কর্মসূচি থেকে।
অজয় বাঙ্গা জানান, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং দ্রুত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য সহযোগিতা করবে। এ ঋণ প্যাকেজের মাধ্যমে সরকার তারল্য সঙ্কট মোকাবেলা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কার করতে পারবে। বিশেষত, দেশের ডিজিটালাইজেশন প্রচেষ্টাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা হবে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বিশ্বব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচির জন্য এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বব্যাংককে উদ্ভাবনী ঋণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান এবং বলেন, "এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, আর এই ঋণ সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।"
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিকভাবে উন্নত অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিময়ের বিষয়েও তারা কাজ করছেন। নেপাল ও ভুটানে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ কীভাবে ভারত ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করা যেতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনিও মতামত দেন।
বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ প্যাকেজ দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আগামী বছরগুলিতে এই ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও কার্যকর ও টেকসই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ঋণ ছাড়াও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলতে পারে এই ঋণ সহায়তা।
এ ঋণের অর্থায়নের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।