
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৭:১৯

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেছে। গোলাপগঞ্জের তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক, দৈনিক শ্যামল সিলেট এবং যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি অজামিল চন্দ্র নাথ (৫০) আর নেই। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস এবং ব্রেইন সমস্যার কারণে ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর, তিনি গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রোববার সন্ধ্যা ৭টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অজামিল চন্দ্র নাথ গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি হলধর চন্দ্র নাথের পুত্র। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন, তবে কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রেইনের সমস্যার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। গত ১ আগস্ট রাতে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে, তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়, তবে পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি ৪০ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন।
সাংবাদিক অজামিল চন্দ্র নাথ তাঁর জীবদ্দশায় নানা সামাজিক এবং শিক্ষামূলক কাজে নিবেদিত ছিলেন। তিনি ঢাকাদক্ষিণ হলিসিটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং গোলাপগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন প্রি-ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর অবদান শুধু সাংবাদিকতা নয়, সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়নেও ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিক অজামিল চন্দ্র নাথের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বৃহত্তর সিলেট জেলা অনলাইন প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম রুমন এবং সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন এক শোকবার্তায় তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল ইসলাম মিঠু, সহ-সভাপতি মো. আমিন রশীদ ফোহাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. গৌছুজ্জামান চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আর. কে দাস চয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুদ্দীন রাসেল, দপ্তর ও অর্থ সম্পাদক কামাল আহমদ, ক্রীড়া ও সমাজ সেবা সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম লস্কর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তারেক আহমদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ইসমাঈল আলী টিপু শোকবার্তায় তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
অজামিল চন্দ্র নাথের মৃত্যুতে গোলাপগঞ্জ এবং সিলেটের সাংবাদিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর মতো একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকের প্রস্থান সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
**আরিফুল ইসলাম মহিন
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০১৫১৬১৯৫৪২৫**