
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১৮:৪৩

মেহেরপুরে সড়ক সম্প্রসারণ ও দুর্ঘটনার অজুহাতে আবারো জেলা পরিষদের শতবর্ষী ১৪৪০টি গাছ কাটার তোড়জোড় শুরু করেছে মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। এই গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শতবর্ষী পুরানো গাছগুলো কাটা হলে মেহেরপুর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
প্রায় বছর খানেক আগেও মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নে ২৭৮৬ টি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হয়। তবে সেই গাছ কাটা হলেও নতুন করে লাগানো হয়নি একটিও গাছ। সড়কের দুপাশ এখন ধু-ধু মরুভূমি। গাছ কাটা নিয়ে পরিবেশবিদ ও সাধারন মানুষ ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সে-সময়। শতবর্ষী কড়ই, মেহগনি, শিমুল, বাবলা ও নিম গাছ গুলো কাটার কারণেই চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে দেশের সর্বোচ্চ ৪৩.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
সেই রেশ না কাটতেই ফের মেহেরপুর-মুজিবনগর ও মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে আরও ১৪৪০ টি গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। ইতিমধ্যে মেহেরপুর জেলা পরিষদ বরাবর একটি চিঠি দিয়ে গাছ গুলো কাটার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সওজ।
মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানাগেছে, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের আমঝুপি পর্যন্ত চার লেনের রাস্তা তৈরির কাজ করা হবে। যাতে প্রধান বাধা হয়ে আছে রাস্তার পাশে ৯৭৬টি ছোট বড় বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ। আর মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কে দূর্ঘটনা এড়াতে কাটা হবে আরও ৪৬৪ টি গাছ। গাছ গুলোকে লাল রং করে নাম্বারিং করা হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


পরিবেশবিদ ও মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোলের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, গাছ নিধনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এভাবে শতবর্ষী গাছ কেটে ফেললে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভবনা তৈরি হয়। পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, গাছ গুলো রাস্তার উপরে চলে এসেছে। যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া গাছ গুলোর কারণে সড়ক সংস্কার বা প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। সেজন্য জেলা পরিষদকে চিঠির মাধ্যমে তালিকাসহ গাছ কাটার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, একটি তালিকাসহ চিঠি পেয়েছি। জেলা পরিষদ থেকে সার্বেয়ার (পর্যবেক্ষক) যাবে। তারা যে গাছ গুলো কাটা প্রয়োজন বলে মনে করবে সেগুলোই কাটা হবে।