
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০:৩২

আশাশুনির খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দু'পক্ষের পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমস্যা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. রনি আলম নূর সম্ভাব্য দুটি স্থান পরিদর্শন করে স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। শনিবার বিকালে প্রথমে গদাইপুর গ্রামের সাবেক কাছারিবাড়ির স্থানে উপস্থিত হয়ে জনতার সাথে কথা বলেন।
এসময় গদাইপুরে স্থান নির্ধারণের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য খোকন খাঁ। তিনি বলেন পূর্ব পুরুষ থেকে এ জায়গায় কাছারিবাড়ি ছিল। এখানে ৬১ শতক খাস সম্পত্তি রয়েছে। যাহা সরকারি খাস খতিয়ানে বিআরেস খতিয়ান ভূক্ত হয়েছে। স্থানটি সাতক্ষীরা টু প্রতাপনগর ভায়া আশাশুনি প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যাতয়াত ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া কিছুটা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান। ১৯৮৮ সালে প্রলংকারী ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় তৎকালিন ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক আলী মোড়লের প্রতক্ষ্য হস্তক্ষেপে অফিসটি তার বাড়ী এলাকায় চলে যায়।
তখন থেকে অদ্যবদি এলাকার বৃহৎ অংশের জনগন জরুরী প্রয়োজনে দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে যেতে হয়। তাতে এক দিকে যেমন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়, তেমনি শারিরিকভাবে নাজেহাল হতে হয়। কারন এ এলাকা থেকে খাজরা যাওয়ার পথ দীর্ঘদিন ভঙ্গুর ও ওকেজো প্রায়। গদাইপুর পুরাতন কাচারী বাড়ীতেই যদি ভূমি অফিসটি পুন:নির্মিত হলে ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডের ৬টি ওয়ার্ডের মানুষ জনদূর্ভোগ থেকে রেহাই পাবে। এলাকাবাসি আরো বলেন,
ইউনিয়নের খাজরা গ্রামটি ভৌগলিকভাবে একটি শেষ সীমান্তে। কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন হওয়ায় যে কোন মুহুর্তে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে। তাছাড়া খাজরায় কোন খাস খতিয়ানভূক্ত সরকারি উপযুক্ত যায়গা নাই। ওই এলাকার জনগন যে জায়গায় ভূমি অফিস নির্মান করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছে, সে স্থানে রাস্তা মুখ করে সরকারিভাবে ডিজাইন করা ভূমি নির্মান আদৌ সম্ভব নয়।অপরদিকে, খাজরা বাজারে পুরাতন ভূমি অফিস, যা সাধারনের নামে রেকর্ডকৃত, সে স্থানে উপস্থিত হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দিনেশ চন্দ্র ম-ল।
তিনি বলেন, ১০০ বছরের অধিক কাল থেকে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত ভূমি অফিসে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলায় ভূমি অফিসটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে এবং পরে ভূমি অফিসের নামে কোবলা মূলে ১৫ শতক জমি হস্তান্তর করেন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মোবারক আলী মোড়ল। কিন্তু ১৯৯১-৯২ সালে ভূমি জরিপের সময় অজ্ঞাত কারণে ওই সরকারি সম্পত্তি খাস খতিয়ানভূক্ত না হয়ে দাতার ওয়ারেসগনের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।

ভূমি অফিসটি খাজরা ইউনিয়নের নয়টি মৌজার মধ্যে ছয়টি মৌজার মধ্যভাগে অবস্থিত। এর চারপাশে মসজিদ, মন্দির, হাইস্কুল, দাখিল মাদ্রাসা, হাসপাতাল, বড় বাজার, কৃষি অফিস, প্রাণিসম্পদ অফিস, মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খেলার মাঠ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ রয়েছে। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মু. আব্দুল হাই এখানে যোগদানের পর থেকে স্থানীয় ব্যক্তিদের মতামতকে উপেক্ষা করে গত বছরের ২৬ এপ্রিল ১২৪ নং স্মারকে গোপনে ভূমি অফিসটি গদাইপুরে স্থানান্তরের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তিনি এ কাজটি জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন। তাছাড়া বহুপূর্বে যখন গদাইপুরে কাছারিবাড়ি ছিল তখন সেখানে ডাকাতি করে কয়েকটি মৌজার কাগজপত্র লুটপাট করা হয়েছিল। তাই সেখানে ভূমি অফিস নির্মীত হলে সব সময় নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তাই নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে খাজরা বাজারের পুরাতন স্থানে ভূমি অফিস নির্মাণের জন্য উপস্থিত শতশত মানুষ ইউএনও'র মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নিকট উদাত্ত আহ্বান জানান।
ইউএনও রনি আলম নূর পরিদর্শন শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে উভয় স্থানে পৃথক পৃথক ভাবে নিজ নিজ দাবি আদায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ইউপি সদস্য, ব্যাবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।