
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩, ১:১৯

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়নকারী বেসরকারি সংস্থা সোসাইটি ফর পিপলস্ ইনিশিয়েটিভস’র (এসপিআই) বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে রয়েছে উপানুষ্ঠানিক শিখন কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ না করা, শিখন কেন্দ্রের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বরাদ্দ না দেওয়া, শিখন কেন্দ্রের ভাড়া বরাদ্দের অর্ধেক দেওয়া ও শিক্ষকদের উৎসব ভাতা দিয়ে তা ফেরত নেওয়া।
জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারীতে আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এসপিআই’র ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিখন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে শিক্ষক ও ৩০জন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া ৬ জন সুপারভাইজার রয়েছে।
উপানুষ্ঠানিক শিখন কেন্দ্রের ২ হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে প্রতি মাসে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত খাতা পাওয়ার কথা। গত এক বছরে শিক্ষার্থীদের মাত্র দু’বার খাতা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ মাস যাবত খাতা দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া পেন্সিল, শার্পনার ও ইরেজার দেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো নিয়মিত দেওয়া হয় না।
প্রতিটি শিখন কেন্দ্র পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু গত এক বছরে ৭০টি শিখন কেন্দ্রের কোনো কেন্দ্রই এই বরাদ্দ পায়নি। প্রতিটি শিখন কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ১ হাজার ২০০ টাকা। শিখন কেন্দ্রের ভাড়া বাবদ দেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। শিক্ষকদের অনেক সময় নিজের টাকায় শিখন কেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।
গত ঈদুল আজহায় শিখন কেন্দ্রের ৭০ জন শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্টে উৎসব ভাতা বাবদ ৫ হাজার করে টাকা পাঠিয়ে তা তাদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সুপারভাইজার ও শিক্ষক নিয়োগে অর্থ গ্রহণ করা সহ এক অফিস সহকারিকে এক বছরের বেতন না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, গত ঈদে বোনাস বাবদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছিল। পরে তা ফেরত নিয়েছে। কেন্দ্র ভাড়া বাবদ মাসে ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য কোন টাকা পাওয়া যায়নি। নিয়োগের সময় কিছু টাকা খরচ করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা দুই থেকে তিনবার তিনটি করে খাতা পেয়েছে। এরপর আর খাতা পায়নি। শিখন কেন্দ্রগুলো সবাই মিলে পরিস্কার করে।
নির্বাহী পরিচালক তানিয়া মোর্শেদ বলেন, কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে নিয়মিত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ সম্ভব হয়নি। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রোগ্রাম ম্যানেজার আদনান মোর্শেদের সাথে কথা বলতে বলেন।
প্রোগ্রাম ম্যানেজার আদনান মোর্শেদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বর ০১৭৭৬****৬৪ এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো কুড়িগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মোশফিকুর রহমান বলেন, অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।