
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৩, ১৬:৪২

দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি উপজেলার খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদী খননের বালু অনুমতি ছাড়াই ট্রাক্টররে করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগে মোক্তারুল হক (২০) নামে ট্রাক্টর চালকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তফসিলদার) আজিজুল হক বাদী হয়ে দুই জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে অপর আসামি বাহাদুর রহমান (৩৫) পলাতক রয়েছেন বলে জানান পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট)বিকেলে উপজেলার খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আজিজুল হক স্থানীয় গ্রাম পুলিশের দাফাদার ও গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাক্টররে করে নদী খননের বালু অন্যত্র চুরি করে বিক্রির সময় বালু বোঝাই ট্রাক্টরসহ চালক মোক্তারুল হক কে নয়ানগর বালু পয়েন্টে হাতেনাতে আটক করেন। এসময় অপর আসামি বাহাদুর রহমান ঘটনা স্হল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। আটক আসামী মোক্তারুল হক (২০) ওই ইউনিয়নের নয়ানগর (বিশ্বাস পাড়া) গ্রামের মজিবর রহমান এর ছেলে। অপর পলাতক আসামী বাহাদুর রহমান (৩৫) একই গ্রামের মমতাজ এর ছেলে।
থানায় লিখিত এজাহারে আজিজুল হক বলেন, ১৫ আগষ্ট দুপুরে গ্রাম পুলিশের দাফাদার রিয়াজ উদ্দিন এর মাধ্যমে জানতে পারি যে, নয়ানগর এলাকায় বালু পয়েন্ট থেকে নদী খননের ও নদীর তীরে রক্ষিত সরকারি বালু অনুমতি ছাড়াই ট্রাক্টররে করে পলাতক আসামীর যোগসাজশে অন্যত্র চুরি করে বিক্রি করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশ নয়ন রবিদাস ও রাম চরন রবিদাস কে সাথে নিয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় নয়ানগর বালু পয়েন্টে বালু বোঝাই ট্রাক্টরসহ চালককে ঘটনা স্হলে আটক করা হয়। এসময় বালু চুরি কাজে ব্যাবহারিত ট্রাক্টরটি জব্দ করি। অপর আসামি বাহাদুর রহমান কৌশলে ওই স্থান থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ মোকলেদা খাতুন মীমকে অবগত করা হয়। পরে তিনি ঘটনা স্হলে উপস্থিত হয়ে জব্দ করা ট্রাক্টরটি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ওই দিন রাতে আটক আসামীকে থানায় হাজির করিয়া দুই জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু ছায়েম মিয়া জানান, নদী খননের বালু চুরি করে ট্রাক্টররে করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগে বালু বোঝাই ট্রাক্টর ও চালককে থানায় হাজির করিয়া খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আজিজুল হক বাদী হয়ে একজন পলাতক আসামীসহ দুই জনের নামে রাতেই মামলা দায়ের করেন। আজ ১৬ আগষ্ট আটক আসামী মোক্তারুল হক কে দিনাজপুর কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর পলাতক আসামীকে গ্রেফতাররে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হাকিমপুর থানার মামলা নম্বর ০৮।

হাকিমপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ মোকলেদা খাতুন মীম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় খবর পেয়ে ঘটনা স্হলে পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হই এবং যেহেতু বিষয়টি মোবাইল কোর্টের বিষয় নয় তাই নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাকিমপুর ও বিরামপুর উপজেলার ছোট যমুনা নদী খননের কাজ করেন। এসময় নদী খননের যন্ত্র দিয়ে নদী খননের বালু নদীর তীরে সংরক্ষণ করে রাখেন। সেই সংরক্ষিত বালু অনুমতি ছাড়াই চুরি করে ট্রাক্টররে মাধ্যমে অন্য জায়গায় বিক্রি করছেন একটি চক্র। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ ঘটনা স্হলে থেকে বালু বোঝাই ট্রাক্টর ও চালককে আটক করে পলাতক আসামীসহ থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। একজন ট্রাক্টর চালক একাই এসব বালু চুরি করে বিক্রি করা সম্ভব নয় তাই এঘটার নেপথ্যে কারা কাজ করছেন সেটি উদঘাটন করার জন্যই মূলত এই নিয়মিত মামলা রুজু করা বলে জানান তিনি।