
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৩, ১:৫৪

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা চিনির দাম বেড়ে গেছে। প্রতি কেজি চিনি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। এতে মিষ্টি জাতীয় খাবারের দাম বেড়ে গেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন বেশি দামে চিনি বিক্রি করতে না পারে সেজন্য বাজার অভিযান চলমান রাখার আশ্বাস দিয়েছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত মাসে সরকার প্রতি কেজি চিনির খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে চিনির দাম বাড়েই চলেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহকারীরা চাহিদামত চিনি সরবরাহ না করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে প্যাকেটজাত চিনির দেখা মেলেনি। খোলা চিনি প্রতি কেজি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ মিষ্টি জাতীয় পণ্যের দোকানে।
মিষ্টি জাতীয় পণ্যের ক্রেতা জহির উদ্দিন বলেন, রমজানে প্রতি কেজি জিলাপি ১৬০ টাকায় আর মিষ্টি ২৫০ টাকায় কিনেছি। আজ জিলাপির কেজি ২০০ টাকা আর মিষ্টির কেজি ৩০০ টাকা।
উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের রাহিজুল ইসলাম বলেন, এক কেজি খোলা চিনি ১৩০ টাকা। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ক্রয় ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে যাবে।

ভূরুঙ্গামারী বাজারের খুচরা বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহ আগে চিনির কেজি ১২০ টাকা ছিল। অনেক দিন থেকেই বাজারে প্যাকেট চিনি নেই।
ভূরুঙ্গামারীর মেসার্স দুধকুমার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীরা ফরিদুল হক শাহীন শিকদার বলেন, গত কয়েক দিন যাবত আমার দোকানে চিনি নেই। কোন কোম্পানির কাছ থেকে চিনি পাচ্ছিনা।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা বিক্রেতা বলেন, কোম্পানিগুলো প্যাকেট চিনি সরবরাহ করছে না। প্যাকেট চিনির গায়ে মূল্য দেওয়া থাকে। খোলা চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি লাভের আশায় তারা সম্ভবত প্যাকেট চিনি ভেঙে খোলা চিনি হিসেবে সরবরাহ করছে।
কুড়িগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিনির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন বাড়তি দামে চিনি বিক্রি করতে না পারে সেজন্য বাজার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।