
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২২, ২৩:২০

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় শুক্রবার থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদ-নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই সময় উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী সাগরে কোন ধরনের জাল ফেলা যাবে না। এই ২২দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ, বাজারজাত ও পরিবহন আইনত দ-নীয়। সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবানে সারা দেশের নদ-নদীতে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় সকাল ৭টা থেকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীসহ বেশ কয়েকটি নদীতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ। বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রথম দিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জিব সন্যামত ও নৌ-বন্দর থানার ওসি আ. জলিল সহ অন্যান্যরা।
মৎস অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গোটা বরিশাল বিভাগে নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশাল বিভাগের নিবন্ধিত মা ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত ৩ লাখ ৭১ হাজার ১২১ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে মোট ৬ হাজার ১শ ৪৩ টন চাল দেওয়া হবে।
তবে এ নিষেধাজ্ঞার ফলে অনিবন্ধিত জেলেরা পড়েছেন চরম দুঃশ্চিন্তায়। কারণ নিষেধাজ্ঞার সময় অনিবন্ধিত প্রায় সোয়া লাখ পরিবার পান না কোনো সরকারি সহায়তা। আবার নিবন্ধিত জেলেদের অভিযোগ টাকা না দিলে বরাদ্দকৃত সুবিধা সঠিকভাবে পান না, সেই সঙ্গে কোনো কোনো জায়গায় ২০ কেজির চালের স্থলে পরিমাণে কমও দেওয়া হয়।


মৎস্য কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র দাস জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২২ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইলিশ আহড়ন কেন্দ্র এলাকাগুলোতে আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়েছি। সেই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর করতে দিন-রাত সব সময় আমাদের টহল জোরদার থাকবে। এই সময়ে জেলার ৫১ হাজার ৭শত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হবে।
নৌ-বন্দর থানার ওসি আ. জলিল বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌ পুলিশ দুই ভাগে অভিযান পরিচালনা করছে। নদীতে মাছ শিকার কিংবা নদীতে প্রবেশেকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মেঘনা, কালা বদর, আড়িয়াল খাঁ, গজারিয়া, তেতুলিয়া, মাসকাটা নদী ইলিশের অভয়শ্রম হলেও এবার দেশের সব নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলেন তিনি।