
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৪:৪০

প্রথম দেখায় মনে হবে এযেন তাল গাছের রাজ্য। রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য তাল গাছের সারি। যেন মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় ৩কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এই সৌন্দর্য মন্ডিত স্থানে আয়োজন করা হয়েছে তাল পিঠার মেলার। শনিবার বিকেল থেকে তিনদিন ব্যপী এই মেলায় সমাগম ঘটেছে হাজারো মানুষের। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তাল সড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে এ অঞ্চলের বহু মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশা-পাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তাল পিঠারও। এ বছর তালের পাটিসাপটা, তালে জিলাপি, তালের বড়া, তালের ঘীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়।
অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পশরা সজিয়ে বসেন দোকানীরা। বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানী জাহেরা খাতুন বলেন, আমার স্টলে ১০-১২রকমের পিঠা আছে। বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠা মেলায়।সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায় । এসময় মিনা বলেন, আমার স্টলে ১০-১৫রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্যরকম এক উৎসব বিরাজ করছে মেলায়।
বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী । এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেকদিন ঘুরাফিরা করা হয়না। অনেক রকমের তালপিঠা পশরা সাজানো। সবমিলে খুব ভালো লাগছে।সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, আমি ও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে এসেছি মেলায়। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। অনেক চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।
পিঠা মেলায় খাদ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রনে এসেছেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এসময় তিনি বলেন, খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তাল গাছ। এখানেই বসেছে রকমারী পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্যরকম স্বাধ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সকলের উচিত বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশরে ভারসাম্য রক্ষা করা।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজিনগর ইউননিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এই তালগাছগুলো রোপন করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্যেশ্য ছিলো বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দযও।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রতি বছর ভাদ্র- আশ্বিনে বসানো হয় বনিল এই আয়োজন। মেলাকে উপলক্ষ করে জামই- মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মুলত নতুন প্রজন্মের কাছে বিভিন্ন প্রজাতির গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেওয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকবো না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে এমটাই আশা আমার।