
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২২, ১৬:৪৫

মেহেরপুরে পুলিশ কনস্টবল আলাউদ্দিন হত্যার অভিযোগে আনিস মন্ডল, তাহাজুত হোসেন, শাকিল হোসেন এবং রুবেল হোসেন নামের ৪ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে বিচারিক আদালত। ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ (২১ জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জজ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত আনিস মন্ডল কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বালিদাপাড়া গ্রামের কালু মণ্ডলের ছেলে, তাহাজুত হোসেন একই গ্রামের আব্দুল মালেক মণ্ডলের ছেলে, শাকিল হোসেন ও রুবেল হোসেন একই গ্রামের সোনাউল্লাহ'র ছেলে ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই গাংনী উপজেলার তৎকালীন পীরতলা আইসি ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) সুবীর রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বামন্দী-কাজিপুর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় টহল থাকাকালীন সময়ে গোপন সূত্রে খবর পান মাইক্রোযোগে ঐ সড়ক দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচার করা হবে। এসময় পীরতলা সাহেবনগর নামক স্থানে অবস্থান নিয়ে মাইক্রোবাসটিকে আটকানোর জন্য রাস্তার উপরে কাঠের গুড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন। এসময় মাইক্রোবাসটি কাছাকাছি এসে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাছের গুড়ি পাশ কাটিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে।
পালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কনস্টবল আলাউদ্দিন কে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে মাইক্রোবাসের বাম্পার এর উপরে আটকে যায়। পুলিশ কনস্টবল আলাউদ্দিনকে টেনেহিঁচড়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নিয়ে হাড়াভাঙ্গা ডিএইচ ফাজিল মাদ্রাসার সামনে স্পিড ব্রেকার এর নিকট কনস্টবল আলাউদ্দিন ছিটকে পড়েন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থল থেকে দুই বস্তায় মোট ৩৪০ বোতল মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয় এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বালিদাপাড়া গ্রাম থেকে কুষ্টিয়া-চ ০২-০০১১ নাম্বারের একটি মাইক্রো উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই ঘটনায় এসআই সুবীর রায় বাদী হয়ে গাংনী থানায় আনিস মন্ডল, তাহাজুত হোসেন, শাকিল হোসেন এবং রুবেল হোসেন নামের ৪ ব্যক্তি কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার সেশন মামলা নং১৩৪/২০১৬। জি আর কেস নং২২০/১৫।
একই ঘটনায় ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় আনিস মন্ডল, তাহাজুত হোসেন, শাকিল হোসেন সিদ্দিক এবং আতিউর রহমানকে আসামি করে মাদকের একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
হত্যা মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন সাক্ষীদের সাক্ষ্যে আনিস মন্ডল, তাহাজুত হোসেন, শাকিল হোসেন এবং রুবেল হোসেন দোষী প্রমাণিত হয় এবং তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডদেশ দেন বিচারিক আদালত।মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত (পিপি) কাজি শহীদ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুল আলম খোকন ও কামরুল হাসান কৌশলী ছিলেন।
এদিকে একই ঘটনায় ফেনসিডিল রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আনিস মন্ডল, তাহাজুত হোসেন, শাকিল হোসেন এবং রুবেল হোসেনকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড। ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডদেশ দেওয়া হয়। ফেনসিডিলের মামলায় অপর আসামি সিদ্দিক আতিয়ারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।মেহেরপুরের বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন।