
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২২, ৪:৩১

বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় অপচয় রোধ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে সারাদেশে এক ঘণ্টা করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সরকার ঘোষিত এ লোডশেডিংয়ের প্রথম দিন সকাল থেকেই লোডশেডিং শুরু হয় মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তবে, সিডিউল অনুযায়ী এক ঘন্টা করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও ৫-৬ ঘন্টা ধরে চলছে লোডশেডিং।
সূর্যের প্রখর তাপদাহে দিনের বেলায় নাভিশ্বাস গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানুষের পক্ষে ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণেই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমেছেন স্বস্তির আশায়। এসময় অনেককে খালি গায়েও হাঁটাচলা করতে দেখা যায়।
দিনের বেলায় ঘরের বাইরে থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন ঘরে আলো জ্বলছে মোমবাতির। গ্রাম অঞ্চলে হারিকেনের দেখা পাওয়া যায় না খুব একটা। তবে এই লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতির দেখা মিলে মাঝেমধ্যে। অনেককে আবার দেখা যায় তালপাখা হাতে।
গরমে অতিষ্ঠ হয়ে দিনের বেলায় রাস্তায় দেখা যায় অনেককেই। এ বিষয়ে গাংনী পৌর এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক নুরুজ্জামান পাভেল জানান, 'এমনিতেই সকাল থেকে বাইরে প্রচণ্ড রোদ আর অসহ্য গরম। ঘরের ভেতরেও হাহুতাশ অবস্থা। এরমধ্যে লোডশেডিং হলে ঘরে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ কারণেই অনেকে রাস্তায় নেমে এসেছেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে।'
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা কাফিরুল ইসলাম বলেন, 'সরকার যেহেতু কারেন্ট বন্ধ করেছে, কিছু তো করার নাই। যেভাবে চালায় সেভাবে চলতে হবে।'মেহেরপুর জেলার বাণিজ্যখ্যাত বামন্দী বাজারের বেকারি ব্যবসায়ী প্রদীপ কুমার বলেন, 'বিদ্যুৎ না থাকায় বেকারি ব্যবসার নাজেহাল অবস্থা। সরকার চাইলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। অনেকেই নানান ভাবে বিদ্যুৎ অপচয় করছে। অপচয় বন্ধ করতে পারলে লোডশেডিং সমস্যা দূর হবে।'

ক্লাস নাইনে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্র সাঈদ হোসেন বলেন, 'আগামী কাল থেকে স্কুল বসবে। লোডশেডিংয়ের জন্য বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ থাকবে। লেখাপড়ার ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেজন্য মোমবাতি কিনেছি। তবে, বিদ্যুৎ না থাকায় লেখাপড়া করা অনেকটাই কষ্টকর।'
বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করতে মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করলে লোডশেডিং সমস্যা দূর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করে গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, 'যখন শতভাগ বিদ্যুৎ ছিলোনা, তখন মানুষ হারিকেন, মোমবাতি, হাতপাখা নিয়ে প্রস্তুত থাকতো। কিন্তু এখন শতভাগ বিদ্যুৎতায়িত জেলা কিংবা উপজেলা হওয়ায় সেই প্রস্তুতি নেই। তবে নানান ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অপচয় করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থা করা জরুরি।'
তবে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে মনিটরিং ব্যবস্থার কোন নির্দেশনা প্রশাসনের কাছে রয়েছে কিনা এবিষয়ে জানতে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি খানমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সম্ভব হয়নি। আর গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগের কথা বলেন।