
মানুষের যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয় সেতু। আর সেই সেতু দাড়িয়ে আছে বাঁশের ঠেকনোর ভরসায়। মানুষ যাতায়াত করে অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে। সেতুটির উপর দিয়েই চলছে মানুষ,অটো, আলগামন, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলসহ ভারি যানবাহন।বাঁশ দিয়ে কতদিন ঠেকিয়ে রাখা যায় একটি ভাঙা সেতু। নানা প্রশ্ন ঝুলছে মানুষের মুখে।
এমনই এক সেতুর দেখা মিলেছে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামে। তেরাইল থেকে দেবীপুরে ঢুকতেই তেরাইলের মুখের ব্রিজটি প্রায় ভঙ্গুর অবস্থায় আছে।হেলে পড়েছে নিচের দিকে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের চলাচল এর উপর দিয়ে। কেউ জানেনা বাঁশের ঠেকনাে ভেঙ্গে কখন ঘটতে পারে মৃত্যুর মতো ভয়ঙ্কর কোনো ঘটনা।
এলাকাবাসী জানান, অনেকদিন ধরেই ভাঙ্গা ব্রিজের উপর দিয়ে মানুষ আতঙ্কের মধ্যেই যাতায়াত করে। কখন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে এই আশঙ্কা করে তারা। অনেকদিন ধরে বাঁশের ঠেকনো দিয়েই এই ব্রিজটিকে খাড়া করে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় বাঁশ ভেঙে ব্রীজটি পড়ে যেতে পারে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতিপূর্বে এই ব্রিজে দুর্ঘটনায় মানুষ মারাও গেছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা। অতিদ্রুত এই ব্রিজটি নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
স্থানীয় কৃষক মন্টু মিয়া জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আমাদের মাঠ থেকে ফসল তুলতে কষ্ট হয়। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা আতঙ্কে থাকি।বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পূর্বে যদি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তাহলে অত্র এলাকার মানুষের উপকার হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী জানান, এই ভাঙ্গা ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় হয় কখন জানি দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।দীর্ঘদিন ধরে দেখছি ব্রিজের তলে বাঁশের ঠেকনো দিয়ে রাখা হয়েছে।যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দ্রুত ব্রিজটি করে দেওয়ার জন্য।

অটোচালক নজরুল ইসলাম জানান,ব্রিজটি দিয়ে অটো নিয়ে যেতে খুব ভয় হয় কখন ভেঙ্গে পড়বে।তাছাড়া এখানে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।তাই ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে আমাদের যাত্রী নিয়ে আর আতঙ্কের পার হতে হবে না।
স্থানীয় বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোছাঃ হাজেরা খাতুন জানান, অনেক দিন ধরেই এই ব্রিজটিতে বাঁশর ঠেকনো দেওয়া আছে।আর এই ব্রিজ দিয়ে মানুষ খুব আতঙ্কের পার হয়।ব্রিজি অতিদ্রুত নতুন করে নির্মাণ করা হলে জনদুর্ভোগ কমে যাবে আর চাষিদের ঘরে ফসল তুলতে কোন দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান কমল জানান,তেরাইল হয়ে গাংনী যাওয়ার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এই সড়কের ভাঙা ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করে এবং আতঙ্ক মধ্য দিয়ে জনগণ পার হয়।তাছাড়া তেরাইল মাঠের কৃষকদের জমির ফসল ঘরে তুলতে হয় এই ভাঙা ব্রিজ দিয়ে।ব্রিজটি অবস্থা এতোটাই খারাপ যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ব্রিজটি দ্রুত করে দেওয়া জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।আর অতি দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন জানান,ব্রিজটি বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।