
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ১৯:২৭

লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আরেক আসামির চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সিলেট বিভাগীয় সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারী ফয়জুল হাসানকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাভোগ করতে হবে তাকে। এ ছাড়া ফয়জুলের বন্ধু সোহাগ মিয়াকে চার বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।
এ মামলার ছয় আসামির বাকি চারজনকে খালাস দিয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ফয়জুলের বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, মামা ফজলুল হক ও ভাই এনামুল হাসান।এর আগে আসামিদের আদালতে হাজিরা করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে আনতে দেখা যায়।
এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মমিনুর রহমান টিটু জানান, গত ২২ মার্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেট বিভাগীয় সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব রায় ঘোষণার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন।এর আগে, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
মাদরাসারছাত্র ফয়জুল হাসান ছুরি দিয়ে জাফর ইকবালের মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষকরা হামলাকারী ফয়জুলকে হাতেনাতে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জাফর ইকবালকে আহত অবস্থায় প্রথমে নগরীর এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় শাবি রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই ফয়জুলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।