
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২, ২২:২৯

মহাসড়কেই আমাদের নাওয়া,খাওয়া, ঘুমানো, বাড়িঘর। মহাসড়কেই কেটে যার দিনের পর দিন। সারাদিন ট্রাকের মধ্যেই থাকতে হয় আমাদের। ঠিকমতো খেতেও পারিনা। দৌলতদিয়া ঘাট মানেই ভোগান্তি। মনে পড়েনা কখনো ভোগান্তি ছাড়া এ ঘাট দিয়ে পার হতে পারছি।এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন যশোর জিকড়গাছা থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসা গাজীপুরগামী ট্রাক চালক হাসেম শেখ (৪৫)।
জানা যায়, বিভিন্ন কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না। একদিকে নদী পার হতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে অপেক্ষা, অপরদিকে সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় পাটুরিয়া থেকে ফেরিতে নদী পার হয়ে এসেও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব হচ্ছে। এর উপর বাড়তি যোগ হয়েছে ঘাট সংকট, ফেরি সংকট। সব মিলিয়ে ভোগান্তির অপর নাম দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌপথ।
বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমান ২০টি ফেরির মধ্যে ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। বাকি ৩টি রোরো (বড়) ফেরি পাটুরিয়ার ডর্কএয়ার্ডে মেরামতে রয়েছে। এদিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭টি ঘাটের মধ্যে ৪টি ঘাট সচল রয়েছে। ৩টি ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঘাট বন্ধ, ফেরি সংকট এবং নাব্যতা সংকট থাকায় ব্যস্ততম এ নৌরুটে যানবাহন পারাপার ব্যহত হচ্ছে।
যে কারণে প্রতিনিয়ত দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে নদী পারের অপেক্ষায় যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে নামার পরও যানবাহনগুলোকে চরম যানজটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাটগামী যানবাহন গুলো দ্রুত ফেরির নাগাল পেতে সিরিয়াল ভেঙে এলেমেলো ভাবে অগ্রসর হওয়ায় অনেক সময় পুরো মহাসড়ক আটকে যাচ্ছে। এতে নদী পার হয়ে আসা যানবাহনগুলোও ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জমিদার ব্রিজ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার এলাকায় দুই সাড়িতে পারের অপেক্ষায় আটকে আছে অন্তত শত শত যাত্রীবাহী বাস,পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট যানবাহন।
এছাড়াও ঘাট এলাকায় যানজট কমাতে ঘাট থেকে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পিছনে গোয়ালন্দ মোড়ে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চালিক মহাসড়কে অপচনশীল পন্যবাহী ট্রাকগুলোকে আটকে দিচ্ছে পুলিশ। এতে করে প্রায় ৪কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের সিরিয়াল তৈরি হয়েছে।

ফরিদপুর থেকে আসা ঢাকাগামী গোল্ডেন পরিবহন এক যাত্রী গার্মেন্টস কর্মী সুমি আক্তার বলেন, দুদিনের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসছিলাম। বাড়ি যাওয়ার দিনও দীর্ঘ যানজটে ছিলাম এমনকি ঢাকায় ফেরার পথেও বাসের মধ্যে প্রায় ৫ ঘন্টা যাবত বসে আছি। তীব্র গরমে ভোগান্তির মধ্যে আর ভালো লাগছেনা। সাথে কিছু ব্যাগ থাকার কারণে বাস থেকে নেমেও যেতে পারছিনা। পথেই মনে হয় দিন কেটে যাবে।
ঢাকাগামী কভার্ডভ্যান চালক আঃ জব্বার শেখ বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে সারা বছরই দুর্ভোগ লেগেই থাকে। কখনও ফেরি সংকট, কখনও নাব্যতা সংকট আবার কখনো ঘন কুয়াশা। এভাবে সারা বছর একটার পর একটা সমস্যা থাকেই। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ সহ্য করে নদী পার হতে হয়। তিনি আরো বলেন, যানজটের কারণে আমার মত হাজার চালকদের গুরত্বপূর্ণ সময় দৌলতদিয়া ঘাটে বসে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষের উচিত এ রুটে ফেরি বৃদ্ধি করা।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ২০টি ফেরির মধ্যে ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। বাকি ৩টি রো রো (বড়) ফেরি পাটুরিয়া ভাসমান ডর্কএয়ার্ডে মেরামতে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় ফেরিতে লোড আনলোডে দ্বিগুন সময় লাগছে। যে কারণে গত কয়েকদিন যাবৎ ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। তাছাড়া শিমুলিয়া নৌরপথের অধিকাংশ গাড়িই এ ঘাট দিয়ে পার হওয়ার কারণে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাংঃ ২৪/৩/২০২২ইং
6 Attachments