
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২২, ১৮:৫৯

২০২১ সালে ৯০টি নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ১৯৮ জনের, আর নিখোঁজ হন ১৮৬ জন। দেশের বেশির ভাগ নৌ-দুর্ঘটনাই তদন্ত আর প্রতিবেদন দাখিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়ীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় না কোনো ধরনের ব্যবস্থা। নৌ-দুর্ঘটনা কমাতে নৌপথে ছোট আকারের লঞ্চগুলো দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, নৌ-দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অনিবন্ধিত নৌযানের নিবন্ধন এবং নিয়মিত সার্ভে করাতে বিআইডব্লিউটিএর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।নদী অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। দেশের যোগাযোগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যমও বলা হয় এই পথকে। তবে প্রতি বছর কয়েকশ’ দুর্ঘটনা অনিরাপদ করে তুলেছে এই সম্ভাবনাময় খাতকে।
দেশে গত কয়েক বছর ধরে নৌ-দুর্ঘটনা ও এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান এবং গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩ হাজার ৩৪৫ জন। ২০২১ সালেই মারা যায় ১৯৮ জন, নিখোঁজ হন ১৮৬ জন ও আহত হয়েছেন ৩৩৯ জন।
প্রতিবার দুর্ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তাদের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না। ফলে বন্ধও হয় না ঘটনার পুনরাবৃত্তি। রোববারের নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপসী-৯ জাহাজের ধাক্কা এসবেরই ধারাবাহিকতা।তদন্ত কমিটিরি সুপারিশের বাস্তবায়ন না হওয়া এবং নিয়মিত সার্ভে না করা, দুর্ঘটনা মূল কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

নৌ-পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. খবিরুল হক চৌধুরী বলেন, গত এক বছরে যে হতাহত হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে আমরা কী ফলাফল পেয়েছি? কী সুপারিশ রয়েছে? সেই সুপারিশগুলো বিআইডব্লিউটিএ কী মেনেছে? সেগুলো আপনারা যারা আছেন তারাই কিন্তু জানতে পারছেন না। সেই জায়গা থেকে আমরা বুঝতে পারি, আমরা খুব বেশি রেজাল্ট দেখিনি।

বুয়েটের নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেন, তদন্ত কমিটি বিভিন্ন যে সুপারিশ দিচ্ছে, সেগুলো নিয়ে এখন কাজ করার সময় এসেছে। ছোট আকারের নৌযানগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো সরিয়ে ফেলতে তারা বিভিন্ন সময় সুপারিশ করেছে।
দুর্ঘটনার পর দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াকেও দায়ী করেন তারা।ড. মীর তারেক আলী আরও বলেন, যে বা যারা দায়ী তাদেরকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।
ড. খবিরুল হক চৌধুরী বলেন, আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি করে দেওয়া আছে। তাহলে আইনে হাত দিতে হবে কেন? আইনে দেওয়া আছে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর। তার মানে আইনটাকে সংশোধন করতে হবে।নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবেন এমন আশা সবার।