
প্রকাশ: ২ মার্চ ২০২২, ০:৪২

‘কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদবাক্যের মতোই অবস্থা দেশের টেলিকম খাতের। দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম সেবা ফাইভজি। অথচ সাধারণ মানুষকে ফোরজি সেবাই দিতে পারছে না মোবাইল অপারেটররা। আবার কোথাও কোথাও মিলছে না থ্রিজি সেবাও।
বুধবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রকাশিত জরিপে উঠে এসেছে ঢাকা বিভাগে নির্ধারিত গতিতে ফোরজি সেবা দিতে পারছে না চার মুঠোফোন অপারেটরের তিনটিই। বিটিআরসির পরীক্ষায় গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটকে ফোরজি সেবার নির্ধারিত ন্যূনতম ডাউনলোড গতি মেলেনি। এমনকি থ্রিজি সেবাও নিশ্চিত করতে পারেনি রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক।
বিটিআরসি বলছে, গত বছরের ১৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাসহ ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ৩৯টি উপজেলায় এই জরিপ চালানো হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, ফোরজি সেবায় সর্বনিম্ন ডাউনলোড গতি সেকেন্ডে ৭ মেগাবাইট থাকতে হবে। অথচ জরিপে দেখা গেছে, গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ডাউনলোড গতি সেকেন্ডে ৬ দশমিক ৯৯ মেগাবাইট, রবির ৬ দশমিক ৪১ মেগাবাইট এবং টেলিটকের দুই দশমিক ৮ মেগাবাইট। শুধু বাংলালিংক ডাউনলোডের নির্ধারিত গতি নিশ্চিত করতে পেরেছে, যা সেকেন্ডে ৮ দশমিক শূন্য ১ মেগাবাইট।

থ্রিজির ক্ষেত্রে রবি, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক নির্ধারিত গতিতে সেবা দিলেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক। নীতিমালা অনুযায়ী, থ্রিজি সেবায় সর্বনিম্ন ডাউনলোড গতি সেকেন্ডে ২ মেগাবাইট রাখতে হয়। তবে পরীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রামীণফোনের ডাউনলোড গতি ছিল সেকেন্ডে ২ দশমিক ২৪ মেগাবাইট, রবির ৮ দশমিক ৫১ মেগাবাইট এবং বাংলালিংকের ৩ দশমিক ৩১ মেগাবাইট। অথচ টেলিটকের গতি পাওয়া গেছে সেকেন্ডে ১ দশমিক ৭৬ মেগাবাইট।
ইন্টারনেট সেবায় কাঙ্ক্ষিত গতি দিতে ব্যর্থ হলেও কলড্রপের হার নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের। তবে এখানেও ব্যর্থ টেলিটক। কলড্রপ হার ২ শতাংশের নিচে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে জরিপে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে টেলিটকের কলড্রপ হার রয়েছে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশে।