
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২২:২৮

মাদকের থাবায় নাস্তানাবুদ হয়ে আসছিল সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুর। প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাদকের দৌরাত্ম্য যেন বেড়েই চলছিল। একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার পরেও ব্যাবসা থামাচ্ছিলোনা মাদক কারবারিরা। মেহেরপুরে গড়ে উঠেছিলো মাদকের দরবার। মেহেরপুরের তিন উপজেলায় স্পর্শ করেছে ভারত সীমন্ত। জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে দেশের মধ্যে প্রবেশ করছিলো ফেনসিডিল, গাজা, ভারতীয় মদ, ইয়াবাসহ নানান ধরনের নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য।
মেহেরপুরে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠলেও আশাহত ছিল না প্রশাসন। দেশমাতৃকার টানে, জেলার যুব সম্প্রদায়কে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে তারা। গত ২ বছরে প্রায় ৩ শতাধিক মাদকব্যাবসায়ীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়াও প্রায় এককোটি টাকা মূল্যর মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশের চৌকস দল।
মেহেরপুর জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার রাফিউল আলমের দিকনির্দেশনা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবির) ওসি জুলফিকার আলির নেতৃত্বে বারবার মাদকবিরোধী অভিযানে সাহসীকতার সাথে সফলতা অর্জন করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) অজয় কুমার কুন্ডু।

২০১৩ সালে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন অজয় কুমার কুন্ডু। মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান সহ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে আগ্রণী ভূমিকা পালন করায় মেহেরপুর জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার হিসেবে ৮ম বারের মতো পুরস্কৃত হলেন তিনি। আজ (২০ ফেব্রুয়ারী) ৭ম বার পেরিয়ে ৮ম বার শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াই তার হাতে পুরস্কার স্মারক তুলে দেন পুলিশ সুপার রাফিউল আলম।
২০২০ সালের এই ফেব্রুয়ারী মাসেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে যোগদান করেছিলেন অজয় কুমার কুন্ডু। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বারবার পুরস্কৃত হওয়ার পর অজয় কুমার কুন্ড ই-নিউজ৭১'কে জানান, 'এই অর্জন তার কাজে অনুপ্রেরণা যোগাবে। মেহেরপুর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে খুব সহজেই এ জেলায় মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। জেলায় সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।'
যেই যুবসম্প্রদায় দেশ ও জাতির আগামীর ভবিষ্যৎ সেই যুবসম্প্রদায় যখন মাদকের করাল থাবায় আক্রান্ত। তখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেখা ডিজিটাল বাংলাদেশে যুবসম্প্রদায়ের আলোয় আলোকিত হওয়াতো দূরে থাক আরো অন্ধকারচ্ছান্ন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. এ.কে.এম শফিকুল আলম। তিনি মনে করেন, দেশকে উন্নয়নের পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে মাদকের প্রভাব থেকে প্রভাবিত মুক্ত করতে হবে যুবসম্প্রদায়কে। সেক্ষেত্রে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।