
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২২:৩১

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন কাজিপুর। সীমান্তঘেঁষা ঘর-বাড়ি থেকে শুরু করে ইউনিয়নের কোনায় কোনায় রয়েছে অসংখ্য মাদক ব্যাবসায়ী এবং মাদকসেবি। পুলিশের কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও মাদকের কারবার যেন থামতে নারাজ।
ইউনিয়নের দু'মাথায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প এবং একটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প ছিলো। সম্প্রতী কিছুদিন আগে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি দেখিয়ে বিলুপ্ত করা হয় পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প। পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে পুরো ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্প।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে কাজিপুর ইউনিয়ন থেকে শুধুমাত্র মাদকদ্রব্য ফেনসিডিলসহ আটক হয়েছে ২৭ জনের অধিক মাদকব্যাবসায়ী। এবং ইউনিয়নে ২ হাজারের অধিক পরিবার মাদক ব্যাবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তন্মধ্যে কাজিপুর গ্রামে রয়েছে ৮'শত থেকে ৯'শত মাদক ব্যাবসায়ী পরিবার। গত কয়েক বছরে এই ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন চিন্হিত মাদক কারবারি প্রশাসনের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে এলাকায় বেড়েছে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য। আনাগোনা মিলছে চোরা কারবারিদেরও। সাধারণ মানুষের গরু, ছাগল চুরির ঘটনা ঘটছে। ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের আত্তাব আলীর গোয়ালের গরু হারিয়ে যায় এবং সেন্টার বাজার থেকে দিনে-দুপুরে একটি ছাগল চুরির সময় চোর আটক হয় গ্রামবাসীর হাতে। ইউনিয়নের নতুন ব্রজপুর নামক স্হানে রাতের আধারে অটোরিকশা চুরিসহ নানান ধরনের ছোট বড় অপরাধ কমবেশি সংঘটিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প পুনরায় চালু করার। যার ফলে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

সাহেবনগর গ্রামের মুজাক্কির মুর্শিদ অনিক জানান, 'কাজিপুর ইউনিয়নের পীরতলা ক্যাম্প উঠে যাওয়াতে আইনশৃঙ্খলার অনেকটা বিঘ্নতা ঘটেছে, মাদক ও চোরাকারবারি সহ অনেক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে।'পীরতলা গ্রামের আকরামুল ইসলাম জানান, 'পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প বন্ধ হওয়ার ফলে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অনেকটা ভঙ্গুর। পুনরায় পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা জরুরি।'

কাজিপুর গ্রামের আব্দুর রউফ স্বপন (মাষ্টার) জানান, 'মাদকাসক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। মাদক, সন্ত্রাস, চোরা কারবারিসহ সব রকম অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ অতন্ত্য জরুরি। সেইক্ষেত্রে পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প যথেষ্ট ভূমিকা রাখতো।'
কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন জানান, 'পীরতলা পুলিশ ক্যাম্প মরহুম চেয়ারম্যান আব্দুল বাকীর সময় পীরতলা প্রাইমারী স্কুলের পাশে স্থাপিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কিন্তু হঠাৎ ক্যাম্পটি উঠে যাওয়ার ফলে আইনশৃংখলায় কয়েকগুণ অবনতি ঘটেছে।'