
প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ৪:৩৭

মসজিদে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুরা নামাজে আসলে তাদের কে দেওয়া হবে চকলেট ও চুইংগাম। এছাড়াও যে শিশু একাধারে ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে তাকে একটি স্কুলব্যাগও উপহার দেওয়া হবে”।সাদা কাগজে এমনি লেখা টাঙানো হয়েছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের আকালু গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দেয়ালে ও আশপাশে। এ ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মসজিদের ইমাম শরিফুল ইসলাম রানা।
ইমাম শরিফুল ইসলাম বলেন- ‘বর্তমান সময়টা ইন্টারনেটের যুগ। অপরদিকে, করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ ১৮ মাস ছিল শিশুদের স্কুল বন্ধ। এখনো বন্ধের রেশ কাটেনি। এই দীর্ঘ সময়টা অলসভাবে পার করছেন কোমলমতি শিশুরা। তারা দিন দিন আসক্ত হচ্ছে মোবাইল গেমস-এ’।‘
মোবাইল গেমস খেলা থেকে আসক্ত মুক্ত করতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ওই সব শিশুদের মসজিদ মুখী করতেই নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ। এতে সহযোগিতা করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয়রা’।
তিনি আরও বলেন- ‘প্রায় এক বছর আগে লেখাটি লাগানো হয়েছে মসজিদের দেয়ালে। প্রথম দিকে শিশুরা না আসলেও উপহার দেওয়ার কথা শুনে ওরা খুব উৎসাহ নিয়ে নামাজের দিকে ছুঁটে আসছেন নামাজ আদায় করতে’।‘
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

মসজিদে আসার কারণে ওদের মোবাইল আসক্তি গেমস নেই বললেই চলে। তারা এখন নিয়মিত মসজিদে আসছেন ও নামাজ পড়ছেন। সকলের সহযোগিতায় ওদের আরও কিছু উপহার সামগ্রী দেওয়া হলে শিশুরা নামাজের দিকে ঝুঁকবে।নামাজে আসা শিশু তামিম, বিজয়, লামি, আব্দুল্লাহ, নাঈম ও শিহাব বলেন- হুজুর আমাদের চকলেট, চুইংগাম ও স্কুল ব্যাগ উপহার পেয়ে আমরা নিয়মিত নামাজ পড়তে আসি। খেলার সঙ্গীদেরও সাথে নিয়ে আসি নামাজের জন্য।
আকালু জামে মসজিদের সভাপতি মো. জাকারিয়া মণ্ডল বলেন- করোনাকালীন সময় থেকে আমাদের এমন উদ্যোগে শিশুরা স্মার্টফোন গেমস ছেড়ে মসজিদ মুখী হচ্ছে। আমি যতদিন বেঁচে আছি এ উদ্যোগ চলমান থাকবে। ভূঞাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল ইসলাম বলেন, এমন উদ্যোগের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এটা সত্যিই প্রশংনীয় উদ্যোগ। আমি অচিরেই মসজিদে গিয়ে ওই শিশুদের সাথে নামাজ আদায় করব।