
প্রকাশ: ৯ জানুয়ারি ২০২২, ৪:৬

ঢাকা থেকে বরিশালগামী সুরভী-৯ লঞ্চে ইঞ্জিনে আগুন লাগার খবর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ট্রিপল নাইনে (৯৯৯) কল করে জানানোয় যাত্রীসহ কয়েকজন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে সুরভী-৯ লঞ্চের চলাচল স্থগিত করে দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
ঘটনার ভিডিও করতে গেলে দুই টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপার্সনকে মারধর করা হয়। রোববার (৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় সুরভী-৯ লঞ্চে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
যাত্রী ও সংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় লঞ্চটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআইডব্লিউটিএ'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে, তা সেটির চলাচল স্থগিত করে দেন।
লঞ্চের যাত্রীরা জানান, ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনের বাষ্প নির্গমনের সাইলেন্সর পাইপ থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে।

যাত্রীরা এটা দেখতে পেলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী যাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করেন। লঞ্চ তীরে ভেড়ানোর জন্য কর্মচারীদের অনুরোধ করতে থাকেন যাত্রীরা।
এর মধ্যে আতঙ্কিত একজন যাত্রী ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চান। এছাড়া কয়েকজন যাত্রী মোবাইলে স্থিরচিত্র ধারণ ও ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বাহিনী স্পিডবোট নিয়ে লঞ্চের দিকে এগিয়ে আসে। তাদের নির্দেশে লঞ্চটি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার মোহনপুর স্টেশনে ভেড়ানো হয়।
রাত সাড়ে ৩টায় মোহনপুর থেকে ছেড়ে সাড়ে চারটায় চাঁদপুর স্টেশনে ভেড়ানো হয় লঞ্চটি। পরে ভোর পাঁচটায় যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয় লঞ্চটি। সকাল ১০টার দিকে বরিশালে নদীবন্দরে পৌঁছে লঞ্চ সুরভী-৯। লঞ্চ থেকে নেমে যাবার আগে বেশ কয়েকজন যাত্রীকে খুঁজে মারধর শুরু করেন লঞ্চের স্টাফরা
এ সময় ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে টিভি চ্যানেলের দুই ক্যামেরার্পাসনকে মারধর করা হয়। লঞ্চ স্টাফদের হামলায় দুই ক্যামেরাম্যানসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।