প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০:৪২
সিমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মামলা থাকায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার দুই ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন স্থগিত ছিলো। দেড় যুগ ধরে আটকে থাকার পর সকল জটিলতা কেটে সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে ইউনিয়ন দুটি। গত ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠির মাধ্যমে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, ২০০২ সালে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল। তখন অবশ্য এ দু’টি এলাকাই ছিল বড়বাইশদিয়ার অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বশেষ হওয়া ওই নির্বাচনের আগেই বড়বাইশদিয়া থেকে বিভক্ত হয়ে মৌডুবী নামে ইউনিয়ন ঘোষণা করার দাবি তোলে দক্ষিণপ্রান্তের মানুষ। সে দাবি পূরণ না হওয়ায় সর্বশেষ নির্বাচনে মৌডুবীর মানুষ অংশ নেয়নি। তাই বড়বাইশদিয়ার অংশের নির্বাচন হয় তখন। এরপর সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে একের পর এক মামলা হয়। যে কারণে পৃথক ইউনিয়নের গেজেট হলেও গত ১৯ বছর দুই ইউনিয়নেই নির্বাচন হয়নি।
অবশেষে বুধবার সপ্তম ধাপে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনের তফসিলে বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের নাম ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ খবর শুনে রীতিমত আনন্দের জোয়ার বইছে ওই দুই ইউনিয়নের মানুষের মাঝে। তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, যেহেতু অনেক বছর পর ভোট দেয়ার সুযোগ হচ্ছে তাই পছন্দের প্রার্থী ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি বেছে নেয়ার সময় এসেছে। অপরদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাদের তৈরি করছেন নিজেকে জনগণের সামনে উপস্থাপনের জন্য। সব মিলিয়ে এ দুই ইউনিয়নে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনের আমেজ।
এবিষয়ে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক হাওলাদার বলেন, “দীর্ঘ বছরপরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের মনে ব্যাপক আনন্দ এবং প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী মাঠ গোছানোর প্রস্তুতি। আমি একজন সাবেক সফল চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় অত্র ইউনিয়নের জনগনের সেবা করার জন্য নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এদিকে, মৌডুবি ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম টুকু বলেন, “নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের ইউনিয়নের তফশিল ঘোষনা করায় এলাকায় উৎসবের আমেজ বইছে। আবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আমি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আমার নির্বাচনী মাঠ গোছাতে কাজ করে যাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ হাওলাদার বলেন, ওই দুই ইউয়িনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আগামী ১২ জানুয়ারি মনোনয়ন দাখিল, ১৫ জানুয়ারি বাছাই, ২২ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। আশাকরি দেড়যুগ পরে একটি নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারবে।