
প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২:৪২

পাঁচি বেগম (৪৬)। পেশায় একজন এক নারী মাছ বিক্রেতা। তবে তিনি পাঁচি বুবু নামেই এলাকায় সর্বাধিক পরিচিত। জিবিকার তাগিদে সে লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া বাজারে খুচরা মাছ বিক্রয় করেন। এতে যে টাকা আয় হয় তাই দিয়ে জিবিকা নির্বাহ করে পাঁচি বুবু। ভূমিহীন হওয়ায় তার মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পে। এই নারী মাছ ব্যবসায়ীর ছোট মাছের দোকানে দুই বছরে খদ্দেরের বাঁকি রয়েছে ৪৫ হাজার টাকা।
গত বছর হালখাতা দিয়ে মাত্র ১২ হাজার টাকা উঠেছিলো। বাঁকি টাকা তুলতে না পারলে তার ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুসকিল তাই মাছের দোকানে বাঁকি টাকা তুলতে এবছর একদিন আগে (মঙ্গলবার বিকাল) থেকে লালপুরের ওয়ালিয়া গ্রামে মাইকিং করে খদ্দের দের হালখাতা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে এই ব্যাতিক্রমী হালখাতার আয়োজন করেছে পাঁচি বুবু। মাইকিং করে বলা হয়, ‘প্রিয় এলাকাবাসি আসসালামুয়ালাইকুম আগামী কাল বুধবার ৮ ডিসেম্বর সকালে ওয়ালিয়া মাছ বাজারে মাছ ব্যবসায়ী পাঁচি বুবুর মাছের দোকানে হালখাতা। উক্ত হালখাতায় আপনারা সকলে আমন্ত্রিত।’

বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ব্যাতিক্রমী এই হালখাতার আয়োজন করা হয়েছে নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া মাছ বাজারে। দুপুরে মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ব্যবসায়ী পাঁচি বেগম তার মাছের দোকানে রঙিন চাঁদোয়া ও লাল-নীল আলোক সঞ্জ দিয়ে প্যান্ডেল সাটিয়েছেন। যারা তার দোকানে হালখাতা করছেন তাদের তিনি মিষ্টি মুখও করাচ্ছেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এই হালখাতা সম্পর্কে জানতে চাইলে পাঁচি বুবু নামে পরিচিত এই মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘তিনি একজন গরীব মাছ ব্যবসায়ী। জীবিকার তাগিদে তিনি এই মাছের ব্যবসা করেন। তার দোকান থেকে অনেকে মাছ বাঁকিতে কিনেছেন। গত বছর হালখাতা করে মাত্র ১২ হাজার টাকা উঠেছে। এখনো তার দোকানে মোট ৪৫ হাজার টাকা বাঁকি রয়েছে। কিন্তু বাঁকি টাকা চাইলে খদ্দেররা আর টাকা দিতে চায় না। অনেক কে হালখাতার কার্ড দিলে তারা বলে তাদের মনে নেই। তাই তিনি এই বাঁকি টাকা তুলতে মাইকিং করে সকলকে হালখাতা করার জন্য জানাচ্ছেন। তারা যেনো এসে হালখাতা করেন।’