
প্রকাশ: ৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০:৫৪

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, সারাদেশে ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে। ছাত্র আন্দোলনে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। যদি হয়রানি করা হয়, মামলা দেওয়া হয়, তবে তার জবাব আমরা রাজপথে এসে দেব।শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী করেছিল মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে। মধ্যরাতে কোর্ট বসিয়ে সাংবাদিককে সাজা দিতে পারেন। সেই নির্যাতনকারী ডিসিকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন। আর জনগণের জন্য আইন করতে পারবেন না। মশকরা করেন জনগণের সঙ্গে? আপনাদের দাঁত কেলানি অনেক দেখেছে জনগণ, এবার কিন্তু দাঁত তুলে ফেলবে।সাবেক এ ডাকসু ভিপি বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে এসেছে। কিন্তু আওয়ামী সরকার কি কমিয়েছে? এরা চোরের দল, চাটার দল। একবার চুরি করতে পারলে, একবার দাম বাড়ালে, সেখান থেকে আর সরে আসে না।
আওয়ামী লীগ সরকার কিছু উন্মাদকে মন্ত্রণালয় ও সংসদে জায়গা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী বলে শেখ হাসিনা বললে নাকি তিনি আগুনে ঝাঁপ দেবেন। তিনি কি সুস্থ মস্তিষ্কের, আপনাদের কাছে কী মনে হয়? ৩০০ এমপি আছেন, তাদের কজনকে জাতীয়ভাবে মানুষ চেনে?তিনি বলেন, রামপুরায় এক ছাত্র নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি বাসে আগুন দিয়েছে। কারা করেছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসতে পারে। কিন্তু সেটি করার আগেই সরকার বিরোধীদলের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়, ছাত্রদের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়।
আওয়ামী লীগ অসুস্থ রাজনীতিকে প্রমোট করছে মন্তব্য করে নূর বলেন, ইউপি নির্বাচনে কী ধরনের সহিংসতা হয়েছে, তা জনগণ দেখেছে। ইউপি নির্বাচনে প্রায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে। তারপর নির্লজ্জ-বেহায়া নির্বাচন কমিশনার বলছেন সহিংসতাবিহীন নির্বাচনের গ্যারান্টি কমিশন দিতে পারবে না।বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুখ হোসেন, শাকিল উজ্জজামান, সাদ্দাম হোসেন, আবু হানিফ, যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাহ প্রমুখ।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘গুরুতর’ বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল, কখন কি হয় বলা যায় না, আমরা কেউ জানি না।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
কাউন্সিলে উপস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. জাফরুল্লাহ বলেন, আমি তাদের একটি অনুরোধ করেছি। তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আমি কোনো কথা বলছি না। আজ তারেকের উচিত- প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ফোন করে বলা, আমাকে পছন্দ করেন আর না করেন, মায়ের জন্য সবাই দোয়া করেন। তার জীবন বাঁচান।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, তারেক আরও একশ বুদ্ধিজীবীকেও ফোন করে বলবেন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আমার মায়ের জীবন বাঁচান। আর মির্জা ফখরুলসহ সবাই প্রতিটি পার্টির কাছে যাবেন এবং বলবেন- আসেন, আমরা সবাই ঈদগাহ মাঠে এক ঘণ্টার জন্য সমবেত হই।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাবা অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক বন্ধু ছিলেন উল্লেখ করে ড. জাফরুল্লাহ বলেন, যখন এরশাদ কোনো আইনজীবী পাচ্ছিলেন না, তখন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক তাকে সাহায্য করেছিলেন। তার ছেলে আজকের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এই সরকারের আরেকটা বিচার হবে। দুর্নীতির মামলার বিচার হবে।
বিচারপতিদের সমালোচনা করে ড. জাফরুল্লাহ বলেন, আপনারা খালেদা জিয়াকে জামিন দিতে পারেন। আমি তো মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলছি না। কিন্তু তাকে জামিনটা দিচ্ছেন না। একজন প্রধান বিচারপতি হবেন। প্রধানমন্ত্রী কার দিকে চোখ দেন, সেজন্য একজন বিচারপতিও কথা বলছেন না। সবশেষে তিনি বলেন, গণফোরামের নতুন এ কাউন্সিল আমাদের নতুন করে পথ দেখাবে। সাফল্য দেখাবে। মন্টু সভাপতি, সুব্রত চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক!
শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে গণফোরামের কাউন্সিলের প্রথম অংশ শেষ হয়। বিকেল ৩টার পর কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।গণফোরামের এই অংশের সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে সভাপতি আর অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক এবং অধ্যাপক আবু সাঈদ চৌধুরীকে নির্বাহী সভাপতি করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণফোরামের এক নেতা বলেন, মন্টু ভাই সভাপতি আর সুব্রত দাদা সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন। আর সাঈদ ভাইকে নির্বাহী সভাপতি করা হবে। এর বাইরে অনেকে কমিটিতে থাকবেন। কমিটির আকার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট হবে।গণফোরামের এ অংশের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে অংশ নেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরির ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির নেতা আব্দুস সালাম।